ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ জয়ের পর নতুন সরকারের দায়িত্ব গ্রহণের প্রাক্কালে আলোচনায় এসেছে প্রধানমন্ত্রীর স্থায়ী সরকারি বাসভবনের বিষয়টি। বর্তমানে দেশের প্রধানমন্ত্রীর জন্য কোনো নির্দিষ্ট প্রস্তুত বাসভবন নেই। সাবেক সরকারি বাসভবন গণভবন ‘জুলাই স্মৃতি জাদুঘর’ হিসেবে রূপান্তর হওয়ায় নতুন প্রধানমন্ত্রীর থাকার জায়গা নিয়ে কৌতূহল তৈরি হয়েছে। সরকারি সূত্র জানায়, অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস দায়িত্ব ছাড়ার পর রাজধানীর যমুনা ভবনটি প্রধানমন্ত্রীর বাসভবন হিসেবে ব্যবহারের পরিকল্পনা রয়েছে। তবে সেটি প্রস্তুত করতে সংস্কার ও আসবাব সংযোজনসহ অন্তত দুই মাস সময় লাগতে পারে।
এদিকে, নতুন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিতে যাওয়া তারেক রহমান আপাতত ব্যক্তিগত বাসভবনেও থাকতে পারেন—এমন আলোচনা রয়েছে। গুলশানের একটি বাড়িতে পরিবারসহ অবস্থান করে সেখান থেকেই সাময়িকভাবে দাপ্তরিক কাজ পরিচালনার সম্ভাবনার কথাও শোনা যাচ্ছে। ইতোমধ্যে ওই এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে।
তবে সংশ্লিষ্টরা বলছেন, প্রধানমন্ত্রীর বাসভবন শুধু আবাসিক হলেই হবে না; দপ্তর-সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা, কর্মচারী এবং নিরাপত্তা বাহিনী, বিশেষ করে স্পেশাল সিকিউরিটি ফোর্স (এসএসএফ)-এর জন্য প্রয়োজনীয় অবকাঠামো থাকতে হবে—যা সব জায়গায় সম্ভব নয়।
জানা গেছে, নতুন প্রধানমন্ত্রীর বাসভবন নির্ধারণে আগেই একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি কাজ করেছে। সংসদ ভবন এলাকা ও শেরেবাংলা নগরসহ বিভিন্ন বিকল্প বিবেচনায় এলেও বাস্তবতা ও জনভোগান্তির কারণে সেগুলো চূড়ান্ত হয়নি।
গণপূর্ত অধিদপ্তর সূত্র জানায়, আপাতত যমুনাই সম্ভাব্য ঠিকানা হতে পারে, তবে শেষ সিদ্ধান্ত নতুন প্রধানমন্ত্রীর পছন্দ ও নিরাপত্তা মূল্যায়নের ওপর নির্ভর করবে।