যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মন্তব্য করেছেন, ইরানে সরকার পরিবর্তনই সবচেয়ে ইতিবাচক সমাধান হতে পারে। তার এই বক্তব্যকে দেশটির বর্তমান ধর্মীয় শাসনব্যবস্থার বিরুদ্ধে স্পষ্ট অবস্থান হিসেবেই দেখছেন বিশ্লেষকরা। শুক্রবার দেওয়া বক্তব্যে ট্রাম্প বলেন, গত কয়েক দশক ধরে কেবল কথাবার্তাই চলেছে, অথচ এর মধ্যে বহু মানুষের প্রাণহানি ঘটেছে। যদিও তিনি ইরানের ভবিষ্যৎ নেতৃত্বে কাকে দেখতে চান, সে বিষয়ে নির্দিষ্ট কোনো নাম উল্লেখ করেননি; বরং বলেছেন, সেখানে দায়িত্ব নেওয়ার মতো অনেকেই আছেন।
এ বিষয়ে ইরানের ধর্মীয় সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি এখনো কোনো প্রতিক্রিয়া জানাননি। এরই মধ্যে পারমাণবিক সমঝোতায় চাপ বাড়াতে যুক্তরাষ্ট্র মধ্যপ্রাচ্যে দ্বিতীয় একটি বিমানবাহী রণতরী পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। বিশ্বের বৃহত্তম ও আধুনিক যুদ্ধজাহাজ USS Gerald R. Ford শিগগিরই ক্যারিবীয় অঞ্চল থেকে মধ্যপ্রাচ্যের পথে যাত্রা করবে। সেখানে আগে থেকেই মোতায়েন রয়েছে আরেকটি মার্কিন রণতরী USS Abraham Lincoln।
ট্রাম্প তার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে রণতরীটির আকাশচিত্র শেয়ার করে জানান, এটি কৌশলগত অবস্থান গ্রহণ করছে। এর আগে জানুয়ারিতে পেন্টাগন এই অঞ্চলে নৌবহর পাঠায়, যখন ইরানে সরকারবিরোধী বিক্ষোভ দমনে কড়া অভিযান চলছিল। ১৯৭৯ সালের ইসলামী বিপ্লবের পর এবারের আন্দোলনেই ইরানে সবচেয়ে বেশি অস্থিরতা দেখা গেছে। সেই বিপ্লবের মাধ্যমেই দেশটিতে ধর্মীয় নেতৃত্বনির্ভর শাসনব্যবস্থা প্রতিষ্ঠিত হয়।
ট্রাম্প আগেও সতর্ক করেছিলেন, পারমাণবিক চুক্তি না হলে সামরিক পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে। তবে হোয়াইট হাউসে ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু–এর সঙ্গে বৈঠকের পর তিনি আলোচনার পথ খোলা রাখার কথা বলেন। যুক্তরাষ্ট্র চায় ইরান ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ বন্ধ করুক। অন্যদিকে ইসরাইলের দাবি, তেহরানকে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি ও হেজবুল্লাহ এবং হামাস–এর মতো গোষ্ঠীর প্রতি সমর্থন প্রত্যাহার করতে হবে।
ইরান ইঙ্গিত দিয়েছে, অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা শিথিল হলে তারা পারমাণবিক কর্মসূচিতে কিছুটা ছাড় দিতে পারে। তবে দেশটির প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান জানিয়েছেন, অতিরিক্ত চাপ বা শর্ত তারা মেনে নেবেন না।
উল্লেখ্য, ট্রাম্প তার প্রথম মেয়াদে সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা–এর সময় স্বাক্ষরিত ইরান পারমাণবিক চুক্তি থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে সরিয়ে নেন এবং নতুন করে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেন। এতে ইরানের অর্থনীতি বড় ধরনের সংকটে পড়ে। পরে নতুন সমঝোতার লক্ষ্যে আলোচনা শুরু হলেও ইসরাইল-ইরান সংঘাতের প্রেক্ষাপটে তা থমকে যায়।