অর্থনীতির কঠিন একসময়ে দেশের প্রধানমন্ত্রী হতে চলেছেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। দীর্ঘ আন্দোলন-সংগ্রামের পর দেশ পুনর্গঠনের দায়িত্ব কাঁধে

বিপন্ন অর্থনীতি রক্ষায় তারেক রহমানে আস্থা

নিউজটি প্রতিবেদন করেছেন: নিউজ ডেস্ক।

আপলোড সময় : ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, সকাল ৯:৩২ সময় , আপডেট সময় : ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, সকাল ৯:৩৬ সময়

অর্থনীতির কঠিন একসময়ে দেশের প্রধানমন্ত্রী হতে চলেছেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। দীর্ঘ আন্দোলন-সংগ্রামের পর দেশ পুনর্গঠনের দায়িত্ব কাঁধে তুলে নিচ্ছেন গত ১৭ বছরে নানা চড়াই-উত্রাইয়ে নিজেকে ‘শাণিত’ করা পরিণত এই রাজনীতিবিদ। তথ্য-উপাত্ত বলছে, তিনি এমন একসময় বাংলাদেশকে সাজানোর ক্ষমতা পেয়েছেন, যখন ব্যাংক খাত লুটপাটে পথহারা। দেশ চলছে ধারদেনায়। কোষাগারে কাঙ্ক্ষিত তহবিল নেই। বড় রাজস্ব ঘাটতি। একের পর এক কারখানা বন্ধের নোটিশ। উচ্চ সুদের ছোবলে বিনিয়োগ মন্দা। স্থবির কর্মসংস্থান। তিনি যখন প্রধানমন্ত্রীর শপথ নেবেন, তখন লাখো বেকার পাস করে চাকরির জন্য তীর্থের কাকের মতো ‘হাঁ’ করে বসে রয়েছেন। আর সাধারণ মানুষ উচ্চ মূল্যস্ফীতির তাপে পুড়ছে। ছোট-বড় ব্যবসায়ীরা অবহেলিত, বঞ্চিত।


গত দেড় বছরে অন্তর্বর্তী সরকারের সবচেয়ে নিগৃহের শিকার হয়েছেন ব্যবসায়ীরা। যার ফলে তাঁরা ব্যবসা-বিনিয়োগে আস্থা না পেয়ে হাত গুটিয়ে বসেছিলেন। ফলে কাঙ্ক্ষিত মাত্রায় ঘুরছে না অর্থনীতির চাকা। তাঁরা অপেক্ষায় ছিলেন, কবে রাজনৈতিক সরকার আসবে আর তাঁরা আস্থা পেয়ে ‘ব্যবসা-উদ্যোগে’ মনোযোগ দেবেন। মাত্র এক দিন আগেই এলো সেই মাহেন্দ্রক্ষণ।


বিএনপি নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়ে সরকার গঠন করতে যাচ্ছে। দলের চেয়ারম্যান হিসেবে তারেক রহমানই প্রধানমন্ত্রী হতে চলেছেন। তাই মন্দার কবল থেকে ব্যবসা-অর্থনীতির চাকা সচল করতে সবার চোখ এখন তারেক রহমানের দিকে। সবার ধারণা, তিনি দায়িত্ব নিয়েই আগে অর্থনীতির ‘ইঞ্জিন’ চালু করতে ব্যবসায়ী-উদ্যোক্তাদের আস্থায় নেবেন। তাঁদের সঙ্গে বসবেন, পরামর্শ করবেন। সব কষ্ট ভুলে দেশ পুনর্গঠনে হাত লাগাতে বলবেন। এমনই আশা ব্যবসায়ী-অর্থনীতি বিশ্লেষকদের। তাঁরা মনে করেন, তারেক রহমানকেই এখন শক্ত হাতে বিপন্ন-বিপর্যস্ত অর্থনীতির হাল ধরতে হবে।


অর্থনীতি বিশ্লেষক ও ফিন্যানশিয়াল এক্সিলেন্স লিমিটেডের চেয়ারম্যান মামুন রশীদ বলেন, ‘একটি রাজনৈতিক পরিবর্তনের প্রেক্ষাপটে, বিশেষ করে বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নেতৃত্বে আগামী দিনে যখন একটি নতুন সরকার গঠন হবে, তখন আমাদের প্রথম এবং প্রধান কাজ হতে হবে ভেঙে পড়া অর্থনৈতিক কাঠামোকে মেরামত করা। দীর্ঘদিনের লুণ্ঠনমূলক অর্থনীতি আর সুশাসনের অভাব বিনিয়োগকারীদের মনে যে গভীর আস্থাহীনতা তৈরি করেছে, তা দূর করাই হবে প্রধান চ্যালেঞ্জ। ব্যবসায়ীদের মনে এই বিশ্বাস জন্মানো জরুরি যে বিনিয়োগ সুরক্ষিত থাকবে এবং আমলাতান্ত্রিক জটিলতা ও রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত হয়ে তাঁরা ব্যবসা পরিচালনা করতে পারবেন।’


সাম্প্রতিক সময়ে অর্থনৈতিক সংকট নিয়ে দেশের বিভিন্ন স্তরের ব্যবসায়ী-উদ্যোক্তাদের সঙ্গে কথা হয়। তাঁরা বলেন, অর্থনীতি বর্তমানে যে গভীর সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে, তা থেকে উত্তরণ ঘটিয়ে টেকসই প্রবৃদ্ধির পথে ফেরানোই নবনির্বাচিত বিএনপির নেতৃত্বাধীন সরকারের জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। বিগত দেড় দশকের পুঞ্জীভূত অনিয়ম, ব্যাংক খাতের পদ্ধতিগত লুটপাট এবং প্রাতিষ্ঠানিক দুর্নীতির ফলে অর্থনীতির যে রক্তক্ষরণ হয়েছে, তা বন্ধ করতে তারেক রহমানের নেতৃত্বে নতুন সরকারকে এক যুগান্তকারী ও বহুমাত্রিক কৌশল গ্রহণ করতে হবে।


তাঁরা আরো বলেন, অর্থনীতির এই কঠিন সন্ধিক্ষণে কেবল গত্বাঁধা সংস্কার যথেষ্ট নয়, বরং রাষ্ট্র কাঠামোর আমূল পরিবর্তনের মাধ্যমে ব্যবসায়ীদের আস্থা ফিরিয়ে আনাই হবে প্রথম ও প্রধান পদক্ষেপ। আস্থা ফেরানোর প্রক্রিয়ায় প্রথম বড় পদক্ষেপ হওয়া উচিত ব্যাংক খাতের পুনর্গঠন। তারেক রহমান যদি রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত হয়ে পেশাদার ব্যাংকার ও অর্থনীতিবিদদের মাধ্যমে কেন্দ্রীয় ব্যাংককে প্রকৃত স্বায়ত্তশাসন দিতে পারেন, তবেই ঋণ বিতরণে শৃঙ্খলা ফিরবে এবং খেলাপি ঋণের সংস্কৃতি বন্ধ হবে। তারল্য সংকট কাটাতে এবং উচ্চ সুদের হারের চাপ কমাতে ব্যাংকগুলোর মূলধন পর্যাপ্ততা নিশ্চিত করার পাশাপাশি সুশাসন প্রতিষ্ঠা করতে হবে, যাতে সাধারণ আমানতকারী ও ক্ষুদ্র উদ্যোক্তারা পুনরায় ব্যাংকিং ব্যবস্থার ওপর ভরসা করতে পারেন।

সম্পাদকীয় :

সম্পাদকঃ মো: ফারুক হোসেইন,

এক্সিকিউটিভ এডিটরঃ ড. আব্দুর রহিম খান,

প্রকাশকঃ মো: মতিউর রহমান।


অফিস :

অফিস : রুপায়ন জেড. আর প্লাজা (৯তলা), প্লট- ৪৬,রোড নং- ৯/এ, সাতমসজিদ রোড, ধানমন্ডি, ঢাকা- ১২০৯।

ইমেইল : info@banglann.com.bd, banglanewsnetwork@gmail.com

মোবাইল : +৮৮ ০২ ২২২২৪৬৯১৮, ০২২২২২৪৬৪৪৯