সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে রাজধানীর কলাবাগান ক্রীড়াচক্র মাঠে আয়োজিত ঢাকা-১০ আসনের নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। সভায় সভাপতিত্ব করেন ঢাকা-১০ আসনে বিএনপির প্রার্থী রবিউল আলম রবি। তারেক রহমান বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার আদর্শের ধারাবাহিকতায় বিএনপি বিশ্বাস করে—বাংলাদেশই আমাদের একমাত্র ঠিকানা। তিনি বলেন, “অত্যাচার ও নির্যাতনের মধ্যেও বেগম খালেদা জিয়া দেশ ছেড়ে যাননি। কারণ, এই দেশের মানুষই তার পরিবার। তাই আসুন, ঐক্যবদ্ধ হয়ে পরিশ্রমের মাধ্যমে দেশ গড়ি—কারণ সবার আগে বাংলাদেশ।”
তিনি বলেন, নির্বাচনী জনসভায় চাইলে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে নিয়ে সমালোচনা করা যেত, কিন্তু শুধুমাত্র কথায় দেশের বা জনগণের কোনো উপকার হয় না। “দেশের প্রকৃত লাভ তখনই হয়, যখন একটি রাজনৈতিক দল মানুষের ভাগ্য বদলের জন্য স্পষ্ট পরিকল্পনা ও কার্যকর কর্মসূচি নিয়ে এগিয়ে আসে,”—বলেন বিএনপি চেয়ারম্যান। জনগণের কল্যাণে বিএনপির বিভিন্ন পরিকল্পনার কথা তুলে ধরে তারেক রহমান বলেন, কৃষকদের সহায়তায় চালু করা হবে কৃষি কার্ড, আর দেশের মা ও গৃহিণীদের জন্য বাস্তবায়ন করা হবে ফ্যামিলি কার্ড। শহর ও গ্রামের প্রান্তিক ও শ্রমজীবী নারীদের স্বাবলম্বী করতেই এসব উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে জানান তিনি। শিক্ষা খাতের উন্নয়নে সারা দেশের স্কুলশিক্ষকদের পর্যায়ক্রমে কম্পিউটার সরবরাহের মাধ্যমে প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তোলার প্রতিশ্রুতি দেন তিনি। পাশাপাশি শহর ও গ্রামে মানুষের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিতে এক লাখ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগের পরিকল্পনার কথাও জানান বিএনপি চেয়ারম্যান।
তারেক রহমান বলেন, প্রায় দেড় কোটি প্রবাসী বাংলাদেশির পাঠানো বৈদেশিক মুদ্রার ওপর দেশের অর্থনীতি অনেকাংশে নির্ভরশীল। তাদের হয়রানি কমাতে, নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং দেশে ফিরে সম্মানজনক জীবনযাপন নিশ্চিত করতে প্রবাসী কার্ড চালু করা হবে। ধর্মীয় ব্যক্তিত্বদের জীবনমান উন্নয়নের বিষয়েও বক্তব্য দেন তিনি। তারেক রহমান বলেন, মসজিদ ও মাদ্রাসার ইমাম, খতিব, মুয়াজ্জিনসহ ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে কর্মরত অনেকেই মানবেতর জীবনযাপন করছেন। বিএনপি সরকার গঠন করলে তাদের জন্য সম্মানজনক জীবনের নিশ্চয়তা দেওয়া হবে।
বিএনপির অতীত শাসনামলের অর্জনের কথা তুলে ধরে তারেক রহমান বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান দুর্ভিক্ষপীড়িত বাংলাদেশকে খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ করেছিলেন এবং খাদ্য রপ্তানিকারক দেশে পরিণত করেছিলেন। আর বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে বাংলাদেশ শিল্পায়নের পথে অগ্রসর হয় এবং আন্তর্জাতিকভাবে ‘এমার্জিং টাইগার’ হিসেবে স্বীকৃতি পায়। মেয়েদের দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত বিনা মূল্যে শিক্ষা নিশ্চিত করার মধ্য দিয়েই বিএনপির শাসনামলের অভিজ্ঞতার প্রমাণ মেলে।
আগামী ১২ ফেব্রুয়ারিকে দেশের মানুষের জন্য একটি ঐতিহাসিক দিন উল্লেখ করে বিএনপি চেয়ারম্যান বলেন, “এই নির্বাচন শুধু একটি ভোটের দিন নয়—এটি সেই ভোট, যার জন্য মানুষ দীর্ঘ ১৬ বছর অপেক্ষা করেছে।” নির্বাচন ঘিরে ষড়যন্ত্র ও অপচেষ্টার বিষয়ে সতর্ক করে তিনি বলেন, একটি পক্ষ নকল ব্যালট সিল তৈরির সময় ধরা পড়েছে। তাই ঢাকা-১০সহ সারা দেশের গণতন্ত্রকামী মানুষকে সজাগ থাকতে হবে। কেউ যদি এনআইডি নম্বর, বিকাশ নম্বর বা ব্যক্তিগত তথ্য সংগ্রহের চেষ্টা করে, তবে বুঝতে হবে সেখানে গভীর ষড়যন্ত্র রয়েছে।
এর আগে বনানী বাজারসংলগ্ন মাঠে ঢাকা-১৭ আসনের নির্বাচনী জনসভায় বক্তব্য দিয়ে তারেক রহমান একটি নিরাপদ বাংলাদেশ গড়ার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন। তিনি বলেন, বিএনপির লক্ষ্য এমন একটি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করা, যেখানে নাগরিকরা দিন-রাত যেকোনো সময় নিরাপদে চলাচল করতে পারবেন এবং পরিবার নিয়ে নিশ্চিন্তে বসবাস করতে পারবেন।
জানা গেছে, আজ নিজের নির্বাচনী এলাকা ছাড়াও ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সাতটি সংসদীয় আসনে মোট আটটি জনসভায় অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের। এর আগে রোববার তিনি ঢাকা উত্তরের ছয়টি আসনে নির্বাচনী জনসভায় অংশ নেন।