বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, জনগণের ঐক্য ও শক্তিকে ভিত্তি করেই বিএনপি নতুন করে দেশ

১৬ বছর পর ভোটাধিকার ফিরে এসেছে, নষ্ট হতে দেওয়া যাবে না : তারেক রহমান

নিউজটি প্রতিবেদন করেছেন: নিউজ ডেস্ক।

আপলোড সময় : ৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, দুপুর ৩:১১ সময় , আপডেট সময় : ৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, দুপুর ৩:৫৯ সময়

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, জনগণের ঐক্য ও শক্তিকে ভিত্তি করেই বিএনপি নতুন করে দেশ গঠনের উদ্যোগ নেবে। তিনি বলেন, দীর্ঘ ১৬ বছর ধরে দেশের মানুষ তাদের ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত ছিল। আন্দোলন, ত্যাগ ও আত্মত্যাগের মধ্য দিয়েই জনগণ সেই অধিকার পুনরুদ্ধার করেছে, যা কোনোভাবেই নষ্ট হতে দেওয়া যাবে না। রোববার রাতে রাজধানীর বাড্ডা সাতারকুলের সানভ্যালী মাঠে ঢাকা-১১ আসনের নির্বাচনী পথসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি। পথসভায় স্থানীয় নেতাকর্মীসহ বিপুলসংখ্যক সাধারণ মানুষের উপস্থিতি দেখা যায়।


তারেক রহমান বলেন, বিগত কয়েক বছরে একাধিক নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলেও সাধারণ মানুষ প্রকৃত অর্থে ভোট দেওয়ার সুযোগ পায়নি। সারা দেশেই ভোটাধিকার কার্যত অনুপস্থিত ছিল। তবে এবার জনগণ স্বাধীনভাবে তাদের ভোট প্রয়োগ করতে পারবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।


তিনি আরও বলেন, ভোটাধিকার পুনরুদ্ধারের সংগ্রামে যারা গুম, খুন ও নির্যাতনের শিকার হয়েছেন এবং যারা প্রাণ বিসর্জন দিয়েছেন—তাদের আত্মত্যাগের বিনিময়েই আজ এই অধিকার ফিরে এসেছে। মঞ্চের পাশে উপস্থিত জুলাই আন্দোলনের শহীদ ও গুম-খুনের শিকার পরিবারের সদস্যদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে তিনি বলেন, যে কোনো পরিস্থিতিতে শহীদ পরিবারগুলোর পাশে দাঁড়ানো সবার নৈতিক দায়িত্ব।


বিএনপি চেয়ারম্যান বলেন, ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে কেবল ভোট দিলেই দায়িত্ব শেষ হয় না; সঠিক ও যোগ্য প্রার্থী নির্বাচন করাটাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। যারা মানুষের পাশে থাকে, এলাকার উন্নয়নে কাজ করে এবং রাষ্ট্র পরিচালনায় অভিজ্ঞ—জনগণকে তাদেরই বেছে নিতে হবে।


তিনি অভিযোগ করে বলেন, গত ১৬ বছরে নানা বড় প্রকল্প বাস্তবায়ন হলেও তার সঙ্গে বেড়েছে ব্যাপক দুর্নীতি। মানুষের জীবনমান উন্নয়নে কার্যকর কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি বলেই আজও বহু মৌলিক সমস্যা রয়ে গেছে।বিএনপি একমাত্র রাজনৈতিক দল যাদের দেশ পরিচালনার বাস্তব অভিজ্ঞতা রয়েছে এবং ভবিষ্যৎ বাংলাদেশের জন্য সুস্পষ্ট রূপরেখা ও কর্মসূচি প্রস্তুত আছে।


দলটির নির্বাচনী ইশতেহার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বিএনপি যে কর্মপরিকল্পনা জাতির সামনে উপস্থাপন করেছে, সেখানে নারী, কৃষক, তরুণ, শ্রমজীবীসহ সমাজের সব স্তরের মানুষের কল্যাণের বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।


তিনি জানান, বিএনপি ক্ষমতায় এলে নারীদের আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী করতে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ চালু করা হবে, যার মাধ্যমে বিশেষ করে দরিদ্র ও প্রান্তিক গৃহিণীরা সরাসরি সরকারি সহায়তা পাবেন। একইভাবে কৃষকদের জন্য ‘কৃষি কার্ড’ চালুর মাধ্যমে বীজ, সার ও কৃষি উপকরণে সহায়তা দেওয়া হবে।


তারেক রহমান বলেন, দেশে প্রায় সাড়ে চার কোটি তরুণ-যুবকের একটি বড় অংশ বর্তমানে কর্মহীন। বিএনপি সরকার গঠন করলে কারিগরি শিক্ষা, ভোকেশনাল প্রশিক্ষণ ও তথ্যপ্রযুক্তি শিক্ষার মাধ্যমে তরুণদের দক্ষ মানবসম্পদে রূপান্তর করে দেশ-বিদেশে কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করা হবে।


তিনি আরও বলেন, মা, বোন ও শিশুদের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে ঘরে ঘরে চিকিৎসাসেবা পৌঁছে দেওয়া হবে। প্রশিক্ষিত স্বাস্থ্যকর্মীরা পরিবারভিত্তিক চিকিৎসা ও পরামর্শ প্রদান করবেন।


ইমাম, খতিব, মুয়াজ্জিনসহ ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে নিয়োজিত ব্যক্তিদের সম্মানজনক জীবন নিশ্চিত করতে সরকারি সম্মানী প্রদানের কথাও জানান বিএনপি চেয়ারম্যান।


আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়ার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, জনগণের জানমাল নিরাপত্তা নিশ্চিত না হলে কোনো উন্নয়ন পরিকল্পনাই বাস্তবায়ন সম্ভব নয়। বিএনপি সরকার গঠনের প্রথম দিন থেকেই নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে।


পথসভায় ধানের শীষের প্রার্থী ড. এম এ কাইয়ুমের হাতে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রতীক তুলে দিয়ে তারেক রহমান ভোট দিয়ে তাকে বিজয়ী করার আহ্বান জানান। তিনি আশ্বাস দেন, নির্বাচনে জয়ী হওয়ার পরদিন থেকেই প্রার্থী এলাকার মানুষের পাশে থেকে কাজ শুরু করবেন।


নির্বাচন ঘিরে ষড়যন্ত্রের বিষয়ে সতর্ক করে তিনি বলেন, একটি মহল ভোটারদের বিভ্রান্ত করতে এনআইডি ও মোবাইল ব্যাংকিং নম্বর সংগ্রহসহ নানা অপকৌশল প্রয়োগ করছে। এসব অপতৎপরতা প্রতিহত করতে সবাইকে সজাগ থাকার আহ্বান জানান তিনি।


তারেক রহমান বলেন, ভোট দিয়ে কেন্দ্র ত্যাগ করলেই দায়িত্ব শেষ নয়; ফলাফল নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করতে হবে।


বেগম খালেদা জিয়ার ত্যাগের কথা স্মরণ করে তিনি বলেন, স্বৈরশাসক বারবার তাকে দেশ ছাড়তে বললেও তিনি জনগণকে ছেড়ে যাননি। তার কাছে বাংলাদেশই ছিল প্রথম ও শেষ ঠিকানা।


তিনি বলেন, “এই দেশ আমাদের ঠিকানা, এই দেশ আমাদের ভবিষ্যৎ। ১২ তারিখের নির্বাচনের পর ১৩ তারিখ থেকেই দেশ গঠনের সংগ্রাম শুরু হবে। সেই যাত্রায় আমি আপনাদের সবাইকে পাশে চাই।”


পথসভাগুলোর মাঝখানে বিভিন্ন এলাকায় রাস্তার দু’পাশে দাঁড়িয়ে নেতাকর্মী ও সমর্থকরা করতালি দিয়ে তারেক রহমানের গাড়িবহরকে স্বাগত জানান। সাতটি আসনে নির্বাচনী প্রচারণা শেষ করতে তার প্রায় সাড়ে সাত ঘণ্টা সময় লাগে। প্রতিটি পথসভাতেই মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ লক্ষ্য করা যায়।

সম্পাদকীয় :

সম্পাদকঃ মো: ফারুক হোসেইন,

এক্সিকিউটিভ এডিটরঃ ড. আব্দুর রহিম খান,

প্রকাশকঃ মো: মতিউর রহমান।


অফিস :

অফিস : রুপায়ন জেড. আর প্লাজা (৯তলা), প্লট- ৪৬,রোড নং- ৯/এ, সাতমসজিদ রোড, ধানমন্ডি, ঢাকা- ১২০৯।

ইমেইল : info@banglann.com.bd, banglanewsnetwork@gmail.com

মোবাইল : +৮৮ ০২ ২২২২৪৬৯১৮, ০২২২২২৪৬৪৪৯