বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম মহাসচিব হুমায়ুন কবির বলেছেন, হবিগঞ্জ-১ নির্বাচনী এলাকার জনগণ অত্যন্ত সৌভাগ্যবান, কারণ তারা একজন যোগ্য ও সৎ প্রার্থী পেয়েছেন। তিনি বলেন, উন্নয়ন নিয়ে এই এলাকার মানুষের দুশ্চিন্তার কোনো কারণ নেই। ড. রেজা কিবরিয়া বিজয়ী হলে তিনি ভবিষ্যতে অর্থমন্ত্রীর দায়িত্ব পেতে পারেন। এমনকি তিনি নিজে বা দলের অন্য কেউ মন্ত্রিত্ব পেলেও এই এলাকার সার্বিক উন্নয়নে পাশে থাকবেন বলে আশ্বাস দেন। রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে হবিগঞ্জের নবীগঞ্জ শহরের করিম রেস্ট হাউজের সামনে আয়োজিত নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।
হুমায়ুন কবির বলেন, দীর্ঘদিন ধরে পলাতক ফ্যাসিস্ট শাসকেরা দেশকে ভেতর থেকে দুর্বল করে দিয়েছে। দেশে আইনের শাসন ও জননিরাপত্তা ভেঙে পড়েছিল। চরম বিশৃঙ্খলা ও অস্থিরতার মধ্যে দিয়ে সময় পার করেছে সাধারণ মানুষ। তবে ২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থান নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলে দিয়েছে। বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান যে উন্নত ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখছেন, তা বাস্তবায়নে বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ ড. রেজা কিবরিয়াকে বিজয়ী করা জরুরি বলে মন্তব্য করেন তিনি।
উপজেলা বিএনপির সভাপতি সৈয়দ মতিউর রহমান পিয়ারের সভাপতিত্বে আয়োজিত সভায় সিলেট বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক জিকে গউছ বলেন, সিলেট বিভাগের সবকটি আসন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে উপহার দিতে দলীয় নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। তিনি দলীয় শৃঙ্খলা বজায় রেখে প্রতিটি ভোটকেন্দ্রের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার আহ্বান জানান এবং ভোট গণনা শেষ না হওয়া পর্যন্ত কেন্দ্র ত্যাগ না করার অনুরোধ করেন।
সভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে প্রার্থী ড. রেজা কিবরিয়া বলেন, নির্বাচনী এলাকার উন্নয়নই তার মূল লক্ষ্য। যোগাযোগ ব্যবস্থা, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে যুগান্তকারী পরিবর্তন আনার পরিকল্পনা রয়েছে। তিনি জানান, খেলাধুলার প্রসারে দুটি উপজেলায় আধুনিক মডেল স্টেডিয়াম নির্মাণ করা হবে এবং বেকার সমস্যা সমাধানে বিশেষ কর্মসূচি গ্রহণ করা হবে।
তিনি আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি পরিবার-পরিজন ও আত্মীয়স্বজনদের সঙ্গে নিয়ে ধানের শীষ প্রতীকে ভোট দিয়ে বিএনপিকে বিজয়ী করার আহ্বান জানান, যাতে তারেক রহমানের নেতৃত্ব আরও শক্তিশালী হয়।
উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মজিদুল করিম মজিদের সঞ্চালনায় সভায় আরও বক্তব্য দেন নবীগঞ্জ উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান মুজিবুর রহমান চৌধুরী শেফু, পৌরসভার সাবেক মেয়র ছাবির আহমদ চৌধুরী, যুক্তরাজ্য প্রবাসী কমিউনিটি লিডার ও সাংবাদিক আবুল কালাম আজাদ ছোটনসহ স্থানীয় ও কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ।