১৯ বছর ১০টি কন্যা সন্তান জন্মদানের পর পুত্র সন্তানের মা হলেন ভারতের হরিয়ানা রাজ্যের এক গৃহবধূ। ফতেহাবাদ জেলার

পুত্র সন্তান পেতে ১৯ বছরে ১১ বার মা হলেন গৃহবধূ

নিউজটি প্রতিবেদন করেছেন: নিউজ ডেস্ক।

আপলোড সময় : ৮ জানুয়ারী ২০২৬, দুপুর ২:৩৭ সময় , আপডেট সময় : ৮ জানুয়ারী ২০২৬, দুপুর ২:৩৭ সময়

১৯ বছর ১০টি কন্যা সন্তান জন্মদানের পর পুত্র সন্তানের মা হলেন ভারতের হরিয়ানা রাজ্যের এক গৃহবধূ। ফতেহাবাদ জেলার ভুনা ব্লকের ঢানি ভোজরাজ গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। একটি পুত্র সন্তান লাভের আশায় ১১ বার গর্ভবতী হয়েছেন ওই গৃহবধু। ঢানি ভোজরাজের বাসিন্দা সঞ্জয় ও সুনীতার বিয়ে হয় প্রায় ১৯ বছর আগে। বিয়ের শুরু থেকেই তারা পুত্র সন্তান চেয়েছিলেন। কিন্তু প্রতিবারই কন্যা সন্তানের জন্ম দেন। কিছুতেই সন্তুষ্ট হচ্ছিলেন না দম্পতি। সঞ্জয় বলেন, তিনি সবসময় তার মেয়েদের ছেলের মতো করে তৈরি করেছেন। তবে তিনি একথাও বলেন, মেয়েদের কোনোদিন বোঝা মনে করেননি। তার বড় মেয়ের বয়স ১৮ বছর। সে দ্বাদশ শ্রেণিতে পড়ে। অন্য মেয়েরাও পড়াশোনা চালিয়ে যাচ্ছে। আর্থিক সীমাবদ্ধতা সত্ত্বেও সঞ্জয় ও সুনিতা তাদের মেয়েদের শিক্ষা এবং লালন-পালন যতটা সম্ভব আরামদায়ক করার চেষ্টা করেছেন। গ্রামবাসীরা বলছেন, সঞ্জয়ের পরিবার সবসময়ই সাধারণ জীবনযাপন করে। সীমিত সম্পদ থাকা সত্ত্বেও তাদের মেয়েদের মূল্যবোধ, শিক্ষা ও আত্মসম্মান প্রদান করেছেন। এই কারণেই এই পরিবারটিকে এলাকায় একটি উদাহরণ হিসেবে দেখা হয়। পুত্র সন্তানের জন্মের পর সঞ্জয় জানান, উন্নত চিকিৎসা নিশ্চিত করার জন্য তিনি তার স্ত্রীকে বাড়ি থেকে প্রায় ৫০ কিলোমিটার দূরে একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করান।


জন্মের সময় নবজাতকটি রক্তাল্পতায় ভুগছিল বলে জানা যায়। চিকিৎসকরা তাৎক্ষণিকভাবে তাকে রক্ত ​​সঞ্চালন করান। সময়মতো চিকিৎসার ফলে শিশুটির অবস্থার উন্নতি হয়েছে। মা ও ছেলে দুজনেই বর্তমানে সুস্থ আছেন। চিকিৎসকদের তত্ত্বাবধানে কয়েকদিন হাসপাতালে থাকার পর তারা এখন স্বস্তির নিশ্বাস ফেলছে। পুত্র সন্তান আসার পর পরিবারে উৎসবমুখর পরিবেশ এসেছে। মিষ্টি বিতরণ করা হচ্ছে। সঞ্জয়ের মা মায়া দেবী তার নাতির জন্মানোর আনন্দে আপ্লুত। তিনি বলেন, ‘ঈশ্বর আমার বহু বছরের ইচ্ছা পূরণ করেছেন। এত বছর ধরে আমার একটাই ইচ্ছা ছিল, পরিবারে একটি নাতি থাকুক।’ সঞ্জয়ের বাবা কাপুর সিং ইতিমধ্যেই মারা গেছেন। সঞ্জয় বলেন, তিনি একসময় গণপূর্ত বিভাগে দৈনিক মজুরির শ্রমিক হিসেবে কাজ করতেন। কিন্তু ২০১৮ সালে তাকে চাকরি থেকে ছাঁটাই করা হয়। এরপর, তিনি মনরেগার অধীনে শ্রমিক হিসেবে কাজ করে তার পরিবারকে ভরণপোষণ করতেন। গত এক বছর ধরে কাজ বন্ধ থাকায় তিনি বেকার হয়ে পড়েন। তা সত্ত্বেও সঞ্জয়ের মুখে খুব কমই বলিরেখার চিহ্ন দেখা যায়। তিনি জানান, কখনো কঠোর পরিশ্রম থেকে পিছপা হননি। তিনি তার সন্তানদের জন্য যা কিছু করতে পারতেন, তা করতেন। পরিস্থিতি যাই হোক না কেন, তিনি সর্বদা তাদের শিক্ষা এবং অন্যান্য চাহিদা পূরণের চেষ্টা করতেন। সঞ্জয় আরো জানান, এক মেয়েকে এক আত্মীয় দত্তক নিয়েছেন। বাকি নয়জনকে তারা স্বামী-স্ত্রী মিলে দেখাশোনা করেন। তিনি স্পষ্টভাবে বলেন, ‘কন্যারা কারো চেয়ে কম নয়। যদি তারা উন্নতি করে, শিক্ষিত হয় এবং নিজের পায়ে দাঁড়ায়, তাহলে তারা হবে আমাদের সবচেয়ে বড় সম্পদ।’

সম্পাদকীয় :

সম্পাদকঃ মো: ফারুক হোসেইন,

এক্সিকিউটিভ এডিটরঃ ড. আব্দুর রহিম খান,

প্রকাশকঃ মো: মতিউর রহমান।


অফিস :

অফিস : রুপায়ন জেড. আর প্লাজা (৯তলা), প্লট- ৪৬,রোড নং- ৯/এ, সাতমসজিদ রোড, ধানমন্ডি, ঢাকা- ১২০৯।

ইমেইল : info@banglann.com.bd, banglanewsnetwork@gmail.com

মোবাইল : +৮৮ ০২ ২২২২৪৬৯১৮, ০২২২২২৪৬৪৪৯