পৌষের কুয়াশামাখা সকালেই ধীরে ধীরে ভরে যায় পঞ্চগড় সুগার মিলের মাঠ। মাঠজুড়ে শিশুদের কলরবে সরব হয়ে ওঠে চারপাশ। একটি-দুটি নয়, পঞ্চগড় সদর উপজেলার ১৩টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ১৩২০ জন শিশুকে একত্রিত করা হয়েছে বিস্তৃত মাঠটিতে। এভাবে মোট পাঁচটি ভেন্যুতে এবার মোট সাড়ে সাত হাজার শিশুকে নিয়ে শীত আনন্দ উৎসবের আয়োজন করে জাবিয়ানদের সংগঠন শিশুস্বর্গ ফাউন্ডেশন।
আজ শনিবার (২৭ ডিসেম্বর) সকালে উৎসবে আসা শিশুদের চোখে-মুখে উচ্ছ্বাস ছড়িয়ে পড়ে, যখন শুরু হয় উপহার লেনদেন। প্রত্যেক শিশুর হাতে একটি করে হুডি, একটি উন্নতমানের স্কুলব্যাগ, খাতা-কলমসহ শিক্ষা উপকরণ এবং ডিম-মুরগি মাংসের গরম খিচুড়ি তুলে দেওয়ার আয়োজন চলে কয়েক ঘণ্টা ধরে।
ওষুধ প্রস্তুত ও বিপণনকারী প্রতিষ্ঠান এভারেস্ট ফার্মাসিউটিক্যালস লিমিটেডের আর্থিক সহযোগিতায় শিশুস্বর্গ ফাউন্ডেশন আয়োজিত উৎসবে কনকনে শীতের মধ্যে এমন উপহার পেয়ে তৃপ্তির হাসি শিশুদের মুখে। খুশি অভিভাবক ও শিক্ষকরাও।
এটি ছিল সংগঠনটির তৃতীয় আয়োজন।
এর আগে জেলার বোদা উপজেলার তেপুকুরিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ে ১৮টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের এক হাজার ৭২৪ জন ও পঞ্চগড় উচ্চ বিদ্যালয়ের ১৬টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের এক ৮৬০ জন শিশুর হাতে তুলে দেওয়া হয় শীতের এই উপহার।
উপহার পাওয়া স্কুলছাত্র সোহেল রানা বলেন, ‘শীতে স্কুলে যেতে কষ্ট হতো। হুডি পেয়ে খুব উপকার হয়েছে।
আরো ব্যাগ, খাতা, কলম, পেনসিল ও খাবার পেয়েছি। ঈদের আনন্দের মতো মনে হচ্ছে।’
স্কুলশিক্ষক নাজমুন নাহার বলেন, ‘আমাদের এলাকার বেশিরভাগ মানুষ গরিব। এই জিনিসগুলো তাদের জন্য খুব প্রয়োজন ছিল। আমরা আয়োজকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাই।
শিশুস্বর্গ ফাউন্ডেশন পঞ্চগড়ের প্রতিষ্ঠাতা কবীর আহমেদ আকন্দ বলেন, আমরা ১৮ বছর ধরে এই কাজগুলো করছি। এটি জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থীদের একটি সংগঠন। ভালোলাগা থেকেই আমাদের যাত্রা শুরু। আমরা শুধু শীতবস্ত্র বিতরণেই সীমাবদ্ধ নই অনেক কাজ করছি। ২০২৩ সাল থেকে আমাদের সঙ্গে বড় সহযোগিতা নিয়ে যুক্ত হয়েছে এভারেস্ট ফার্মাসিউটিক্যালস লিমিটেড। ২০২৩ সালে সাড়ে ৪ হাজার, ২০২৪ সালে ৭ হাজার ও এবারে সাড়ে ৭ হাজার শিশুকে নিয়ে শীত আনন্দ উৎসব অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
এভারেস্ট ফার্মাসিউটিক্যালস লিমিটেডের পরিচালক মোহাম্মদ মজনু মোল্লাহ বলেন, শিশুদের আলোকিত মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতেই আমাদের এই আয়োজন। আমরা চাই পিছিয়ে পড়া এলাকার শিশুরা সমাজের মূল স্রোতধারার সঙ্গে এগিয়ে যাবে এবং আগামীর বাংলাদেশ গড়ে তুলবে মেধা ও মননে। তাদের মুখে এই হাসিই আমাদের বড় প্রাপ্তি।