ফেব্রুয়ারির প্রথমভাগে জাতীয় সংসদ নির্বাচন। এরইমধ্যে বিএনপি-জামায়াতসহ কয়েকটি দল প্রার্থীও ঘোষণা করেছে। তাতে সারাদেশেই নির্বাচনী আমেজ। অফিস-আদালত কিংবা চায়ের আড্ডা, সবখানেই ভোটের আলাপ। এ আলোচনায় নতুন করে এবার যুক্ত হয়েছে গণভোট প্রসঙ্গ।
জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন আদেশে সংবিধান সংস্কার সম্পর্কিত বেশ কিছু প্রস্তাবে জনগণের সম্মতি আছে কি না, তা যাচাইয়ে গত মঙ্গলবার গণভোট অধ্যাদেশ জারি করেছে সরকার। অধ্যাদেশে বলা হয়েছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দিনই হবে গণভোট।
তবে, সংবিধান সংস্কার সম্পর্কিত যে চারটি বিষয়ের ওপর গণভোট অনুষ্ঠিত হবে, এর সম্পর্কে কতটুকু জানেন সাধারণ ভোটাররা।
অধ্যাদেশে বলা হয়েছে, জাতীয় সংসদ ও গণভোটের তফসিল হবে একইদিনে। দুই নির্বাচনের ভোটকেন্দ্র ও বুথ থাকবে একই। জাতীয় নির্বাচনের জন্য থাকছে সাদা ব্যালট। আর গণভোট হবে রঙিন ব্যালটে। যেখানে সংবিধান সংশোধনের চারটি বিষয় তুলে ধরে একটি প্রশ্নে 'হ্যাঁ' অথবা 'না' ভোট দেবেন ভোটাররা। এ নিয়ে ভোটের তিন মাস আগে থেকে ব্যাপক প্রচারণা চালানোর কথা বলছে সরকার। যা এই গণভোটের মূল চ্যালেঞ্জ বলে মনে করছেন নির্বাচন বিশেষজ্ঞরা।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের লোকপ্রশাসন বিভাগের সাবেক চেয়ারম্যান ড. ফেরদৌস আফরিনা ওসমান বলেন, সাধারণ মানুষকে এই প্রশ্নগুলো কতটুকু করতে পারবো, প্রশ্নগুলো কতটুকু তারা বুঝতে পারবে, বুঝে ভোটটা দেবে, এটা একটা বিষয়। দ্বিতীয়ত আসলেই মানুষ ভোটটা দেবে কি না? সব স্তরের মানুষকে যদি যুক্ত করা যায় এই প্রচারণায় তাহলে কিছুটা হয়তো কাজ হতে পারে।
অধ্যাদেশে বলা হয়েছে, জাতীয় সংসদ নির্বাচনের জন্য নিয়োগকৃত রিটার্নিং কর্মকর্তা, সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা, প্রিসাইডিং বা পোলিং কর্মকর্তারা গণভোটেও দায়িত্ব পালন করবেন। থাকবে একই ধরনের সরবরাহ করা দুই ব্যালটের জন্য আলাদা ব্যালট বাক্স।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, একই লোকবল এবং কেন্দ্রে দুই ধরনের ভোট; এতে ভোটগ্রহণ ও গণনায় লাগবে বাড়তি সময়। তাতে তৈরি হতে পারে বিশৃঙ্খলা।
সাবেক নির্বাচন কমিশনার জেসমিন টুলি বলেন, গণনার জন্য দ্বিগুণ জনবল রাখতে হবে প্রশিক্ষণ দিয়ে। তাদের সক্ষমতা বাড়াতে হবে। তাদের আত্মবিশ্বাস বাড়াতে হবে এই সময়ের মধ্যে একজন ব্যক্তি দুইটা ভোট দেবে সেটা যেন ম্যানেজেবল হয়। তাছাড়া বুথ সংখ্যা বাড়াতে হবে। এই সবকিছু নিয়ে যদি পরিকল্পনা করা যায় এবং মানুষজনকে যদি তৈরি করতে পারে সেটা কোনও সমস্যা হওয়ার কথা না।
আসছে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের জন্য ৪২ হাজার ৭৬১টি কেন্দ্র নির্ধারণ করেছে ইসি। আর এবার ভোটার ১২ কোটি ৭৬ লাখ ৯৫ হাজার।