ব্রাজিলের সাবেক প্রেসিডেন্ট জেইর বলসোনারোকে গ্রেফতার করেছে দেশটির ফেডারেল পুলিশ। শনিবার (২২ নভেম্বর) রাজধানী ব্রাসিলিয়ায় নিজ বাসভবন থেকে গ্রেফতার করা হয় তাকে।
বলসোনারে একজন ঘনিষ্ঠ সহযোগী সংবাদ সংস্থা অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসকে (এপি) জানিয়েছেন, গ্রেপ্তারের পর সাবেক এই রাষ্ট্রপ্রধানকে ব্রাসিলিয়ার পুলিশ সদর দফতরে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।
এর আগে, চলতি বছরের সেপ্টেম্বরে ব্রাজিলের সাবেক এই প্রেসিডেন্টকে ২৭ বছর ৩ মাসের কারাদণ্ড দেয় সুপ্রিম কোর্ট। নির্বাচিত সরকারের বিরুদ্ধে গণঅভ্যুত্থানের চেষ্টাসহ গুরুতর পাঁচটি অপরাধে এ দণ্ডাদেশ দেয়া হয় তাকে। এর মাঝে আলাদা এক মামলায় গৃহবন্দি ছিলেন ডানপন্থি এই সাবেক নেতা। বলসোনারোর বিরুদ্ধে দেশটির সর্বোচ্চ আদালত গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করলে তাকে গ্রেফতার করে পুলিশ।
অপরদিকে, বলসোনারোর ঘনিষ্ঠ মিত্র হিসেবে পরিচিত মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মামলাটিকে 'উইচ হান্ট' (জাদুবিদ্যার অভিযোগে নিপীড়ন) বলে আখ্যায়িত করেছেন। তিনি মামলার তত্ত্বাবধায়ক বিচারপতি মোরায়েসের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছিলেন। সেইসাথে, যুক্তরাষ্ট্রে আসা কিছু ব্রাজিলীয় পণ্যের ওপর ৫০ শতাংশ শুল্ক বসিয়েছিলেন। অবশ্য এই মাস থেকে ওই শুল্ক কমাতে শুরু করেছেন তিনি।
উল্লেখ্য, বলসোনারো ২০১৯ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত লাতিন আমেরিকার বৃহত্তম দেশ ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট ছিলেন। ২০২২ সালে বর্তমান প্রেসিডেন্ট লুলা দা সিলভার কাছে নির্বাচনে হেরে যান জেয়ার বলসোনারো। নির্বাচনে পরাজিত হওয়ার পরও বলসোনারো ক্ষমতা ধরে রাখার চেষ্টা করেছিলেন।
পরবর্তীতে, নবনির্বাচিত প্রেসিডেন্ট লুইজ ইনাসিও লুলা দা সিলভাকে ক্ষমতাচ্যুত করার ষড়যন্ত্রসহ পাঁচটি অভিযোগের সবগুলোতে বলসোনারোকে দোষী সাব্যস্ত করে ২৭ বছর তিন মাসের কারাদণ্ড দেন দেশটির সুপ্রিম কোর্টের পাঁচ বিচারকের একটি বেঞ্চ। বলসোনারোর পাশাপাশি সাবেক মন্ত্রী ও সামরিক প্রধানেরাসহ আরও সাতজন এই মামলায় দোষী সাব্যস্ত হয়েছেন।