সৌদি আরবে অবস্থানকালে একটি চক্রের হাতে অপহরণের শিকার হওয়ার পর স্ত্রী ও শ্বশুরের কাছে মুক্তিপণ চাওয়া হয় ৫০ লক্ষ টাকা। দেশের বিভিন্ন ব্যাংক অ্যাকাউন্ট হিসাব ও মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসেসে (এমএফএস) পরিশোধ করা হয় প্রায় ৩৫ লক্ষ টাকা। এরপর সেখানেই ছাড়া পায় অপহৃত ব্যক্তি।
এমন একটি ঘটনায় চক্রের ১ সদস্যকে গ্রেফতার করেছে সিআইডি। বুধবার (১৯ নভেম্ভর) সন্ধ্যায় মাগুরা জেলার শালিথা শানাথীন হরিপুর বাজার এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতার ব্যক্তির নাম মো. জিয়াউর রহমান।
মামলা সূত্রে জানা যায়, ভুক্তভোগী রাসেলকে সৌদি আরবের রিয়াদ শহর থেকে অপহরণ করে এই চক্রের সদস্যরা। পরে রাসেলের বড় ভাই সাইফুল ইসলামের কাছে ইমো এবং ভিওআইপি এর মাধ্যমে যোগাযোগ করে ৫০ লক্ষ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে। অন্যথায় রাসেলকে প্রাণে মেরে ফেলার হুমকি দেয়। মুক্তিপণের অর্থ স্থানান্তরের জন্য বাংলাদেশের বেশ কিছু ব্যাংক অ্যাকাউন্ট ও বিকাশ ও নগদ নাম্বার দেয়।
পরবর্তীতে রাসেলের বড় ভাই সাইফুল ইসলামসহ অন্যান্যরা আসামিদের মুক্তিপণ দিতে রাজি হয়। এরপর বিভিন্ন মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস ( বিকাশ, নগদ ইত্যাদি) অ্যাকাউন্টে ধাপে ধাপে সর্বমোট- ১০ লক্ষ ৩৫ হাজার টাকা এবং অপহরণকারীদের দেয়া ব্যাংক হিসাবে মোট ২৫ লক্ষ টাকা প্রদান করে। সর্বমোট ৩৫ লক্ষ ৩৫ হাজার টাকা মুক্তিপণ পেয়ে রাসেলকে সৌদি আরবের রিয়াদ শহরের রাস্তার পাশে অচেতন অবস্থায় ফেলে রেখে দেয়। পরে স্থানীয়দের সহায়তায় নিরাপদ স্থানে গিয়ে পরিবারকে সমস্ত কিছু খুলে জানালে রাসেলের শ্বশুর বাদী হয়ে খিলগাঁও থানায় মামলা দায়ের করেন।
এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত ৪ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। তাদের মধ্যে ২ জন আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে।
পুলিশ জানায়, আদালতে সোপর্দকরণ ও রিমান্ডের আবেদনসহ পরবর্তী আইনগত কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন। অপরাধের পূর্ণাঙ্গ তথ্য উদঘাটন, অপরাপর সদস্যদের শনাক্ত ও গ্রেফতার করার স্বার্থে সিআইডির তদন্ত ও অভিযান অব্যাহত রয়েছে।