গত বছরের ৫ আগস্ট গণঅভ্যুত্থানের পর মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচারের জন্য আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল পুনর্গঠন করা হয়। পুনর্গঠনের পর

শেখ হাসিনার মামলায় যে ৫ অভিযোগ

নিউজটি প্রতিবেদন করেছেন: নিউজ ডেস্ক।

আপলোড সময় : ১৭ নভেম্বর ২০২৫, সকাল ৯:৪৪ সময় , আপডেট সময় : ১৭ নভেম্বর ২০২৫, সকাল ৯:৪৭ সময়

গত বছরের ৫ আগস্ট গণঅভ্যুত্থানের পর মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচারের জন্য আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল পুনর্গঠন করা হয়। পুনর্গঠনের পর চলতি বছরের ২৫ মে থেকে ৮ অক্টোবর পর্যন্ত মানবতাবিরোধী অপরাধের বিভিন্ন মামলায় আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করা হয়। এর মধ্যে শুধু জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময়কার হত্যাকাণ্ড নিয়ে করা মামলাই আটটি। এই আট মামলার মধ্যে পাঁচটির অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরু করেছে ট্রাইব্যুনাল। বিচারাধীন এই পাঁচ মামলার একটিতে শেখ হাসিনাসহ তিনজন আসামির বিরুদ্ধে আজ দ্বিতীয় মামলার রায় ঘোষণা করা হবে।


মামলায় আসামি হিসেবে আছেন তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল এবং পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) চৌধুরী আব্দুল্লাহ আল মামুন। এর মধ্যে শেখ হাসিনা ও আসাদুজ্জামান খান কামালকে পলাতক দেখানো হয়েছে। মামলার একমাত্র গ্রেপ্তার আসামি চৌধুরী আব্দুল্লাহ আল মামুন—তিনি আদালতে রাজসাক্ষী হিসেবে জবানবন্দি দিয়েছেন।


পাঁচটি অভিযোগ


এ বছরের ১২ মে ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থা চিফ প্রসিকিউটরের কার্যালয়ে এই মামলার তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেয়। প্রতিবেদনে পাঁচটি অভিযোগ অন্তর্ভুক্ত করা হয়—


১. উসকানিমূলক বক্তব্য ও পরবর্তী হামলা

২০২৪ সালের ১৪ জুলাই এক সংবাদ সম্মেলনে শেখ হাসিনা বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতাকর্মীদের ‘রাজাকারের বাচ্চা’ ও ‘রাজাকারের নাতি-পুতি’ বলে মন্তব্য করেন। অভিযোগে বলা হয়েছে, এই বক্তব্যের পর তার প্ররোচনা ও তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এবং আইজিপি’র সহায়তায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এবং সশস্ত্র ‘আওয়ামী সন্ত্রাসীরা’ নিরস্ত্র ছাত্র-জনতার ওপর ব্যাপক আক্রমণ চালায়।


২. হত্যা করে নির্মূলের নির্দেশ

দ্বিতীয় অভিযোগে বলা হয়েছে, শেখ হাসিনা আন্দোলনকারীদের ‘হত্যা করে নির্মূল’ করতে হেলিকপ্টার, ড্রোন ও প্রাণঘাতী অস্ত্র ব্যবহারের নির্দেশ দেন। সেই নির্দেশ বাস্তবায়ন করেন তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল এবং আইজিপি চৌধুরী আব্দুল্লাহ আল মামুন।


৩. বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আবু সাইদ হত্যা

তৃতীয় অভিযোগে আবু সাইদ হত্যাকাণ্ডে শেখ হাসিনাসহ তিনজনের প্ররোচনা, উসকানি, ষড়যন্ত্র, সহায়তা ও সম্পৃক্ততার কথা উল্লেখ করা হয়েছে।


৪. চাঁনখারপুলে ছয়জনকে গুলি করে হত্যা

চতুর্থ অভিযোগে বলা হয়েছে, গত বছরের ৫ আগস্ট রাজধানীর চাঁনখারপুল এলাকায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর গুলিতে ছয়জন নিহত হন। এই হত্যাকাণ্ডেও আসামিদের নির্দেশ ও সম্পৃক্ততার অভিযোগ আনা হয়েছে।


৫. আশুলিয়ায় ছয়জনকে পুড়িয়ে হত্যা

পঞ্চম অভিযোগে আশুলিয়ায় ছয়জনকে পুড়িয়ে হত্যার ঘটনা তুলে ধরা হয়েছে। অভিযোগ অনুযায়ী, তিন আসামির নির্দেশ, প্ররোচনা, উসকানি, সহায়তা ও ষড়যন্ত্রের মাধ্যমেই এ হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়।


সাক্ষ্য ও প্রমাণ 

মামলাটিতে আন্দোলনে অংশগ্রহণকারী, আহত ব্যক্তি, প্রত্যক্ষদর্শী এবং আহতদের চিকিৎসায় নিয়োজিত চিকিৎসকসহ মোট ৫৪ জন সাক্ষ্য দিয়েছেন।


এ ছাড়াও শেখ হাসিনার কথোপকথনের অডিও-ভিডিও, গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদন এবং জব্দ করা গুলিসহ বিভিন্ন আলামত প্রমাণ হিসেবে ট্রাইব্যুনালে উপস্থাপন করা হয়েছে।

সম্পাদকীয় :

সম্পাদকঃ মো: ফারুক হোসেইন,

এক্সিকিউটিভ এডিটরঃ ড. আব্দুর রহিম খান,

প্রকাশকঃ মো: মতিউর রহমান।


অফিস :

অফিস : রুপায়ন জেড. আর প্লাজা (৯তলা), প্লট- ৪৬,রোড নং- ৯/এ, সাতমসজিদ রোড, ধানমন্ডি, ঢাকা- ১২০৯।

ইমেইল : info@banglann.com.bd, banglanewsnetwork@gmail.com

মোবাইল : +৮৮ ০২ ২২২২৪৬৯১৮, ০২২২২২৪৬৪৪৯