বাংলাদেশে আধুনিক ভাস্কর্যের পথিকৃত নভেরা আহমেদের মরণোত্তর ‘স্বাধীনতা পদক ২০২৫’ গ্রহণ করেছেন তাঁর স্বামী গ্রেগোয়া দ্য ব্রুনস।গত রবিবার

নভেরার মরণোত্তর স্বাধীনতা পদক গ্রহণ করলেন স্বামী গ্রেগোয়া

নিউজটি প্রতিবেদন করেছেন: নিউজ ডেস্ক।

আপলোড সময় : ২২ অক্টোবর ২০২৫, দুপুর ৩:৩ সময় , আপডেট সময় : ২২ অক্টোবর ২০২৫, দুপুর ৩:৩ সময়

বাংলাদেশে আধুনিক ভাস্কর্যের পথিকৃত নভেরা আহমেদের মরণোত্তর ‘স্বাধীনতা পদক ২০২৫’ গ্রহণ করেছেন তাঁর স্বামী গ্রেগোয়া দ্য ব্রুনস।

গত রবিবার (১৯ অক্টোবর) ফ্রান্সের লা রোশে-গুয়ঁ শহরে নভেরা আহমেদ জাদুঘরে  আয়োজিত অনুষ্ঠানে গ্রেগোয়ার হাতে স্বর্ণপদক, সম্মাননা সনদ ও পুরস্কারের অর্থ তুলে দেন ফ্রান্সে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত খন্দকার এম তালহা। 

গতকাল মঙ্গলবার (২১ অক্টোবর) ফ্রান্সে বাংলাদেশ দূতাবাসের পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, সংস্কৃতিতে অনন্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ সরকার প্রয়াত শিল্পী নভেরা আহমেদকে মর্যাদাপূর্ণ মরণোত্তর স্বাধীনতা পুরস্কার ২০২৫ প্রদান করেছে। যেহেতু তাঁর স্বামী ব্যক্তিগত কারণে বাংলাদেশে গিয়ে পদক গ্রহণ করতে পারেননি।

তাই মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ যথাযথ মর্যাদায় ফ্রান্সে বাংলাদেশ দূতাবাসকে পদক হস্তান্তরের দায়িত্ব দেয়। 

অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রদূত খন্দকার এম তালহা বলেন, ‘নভেরা আহমেদ বাংলাদেশের আধুনিক শিল্পচর্চা ও ভাস্কর্যের পথিকৃৎ। তাঁর শিল্পকর্ম মানুষের আবেগ, সামাজিক বাস্তবতা ও প্রাকৃতিক সৌন্দর্যকে গভীরভাবে ধারণ করে।’ তিনি বলেন, জাদুঘরে নভেরার শিল্পকর্ম সংরক্ষণ ও প্রদর্শনের মাধ্যমে তাঁকে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তুলে ধরার জন্য গ্রেগোয়া দ্যু ব্রুনের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

বাংলাদেশের সর্বোচ্চ এই সম্মান পাওয়ায় কৃতজ্ঞতা জানিয়ে গ্রেগোয়া দ্যু ব্রুন বলেন, ‘এই পুরস্কার শিল্পী নভেরার শিল্পকর্মের স্বীকৃতি হিসেবে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।’ তিনি জানান, টেট মডার্নসহ ইউরোপের বিভিন্ন রাজকীয় সংগ্রাহকগোষ্ঠীর মধ্যে নভেরার কাজের প্রতি আগ্রহ ক্রমেই বাড়ছে এবং বর্তমানে তাঁর শিল্পকর্ম লন্ডন ফ্রিজ মাস্টার্স ২০২৫-এ প্রদর্শনীর কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে। 

অনুষ্ঠানের পর গ্রেগোয়া দ্যু ব্রুন রাষ্ট্রদূত খন্দকার এম তালহা ও দূতাবাস কর্মকর্তাদের জাদুঘর পরিদর্শনে আমন্ত্রণ জানান এবং নভেরার সৃষ্ট বিভিন্ন ভাস্কর্যসহ শিল্পকর্ম প্রদর্শন করেন। অনুষ্ঠানে ফ্রান্সে বাংলাদেশ দূতাবাসের কূটনৈতিক কর্মকর্তারা ও তাঁদের পরিবারের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

বাংলাদেশে আধুনিক ভাস্কর্যশিল্পের অন্যতম অগ্রদূত নভেরা আহমেদ ১৯৩৯ সালের ২৯ মার্চ সুন্দরবন এলাকায় জন্মগ্রহণ করেন। কর্মসূত্রে তাঁর বাবা সৈয়দ আহমেদ সে সময় সুন্দরবন অঞ্চলে কর্মরত ছিলেন। তাঁর পারিবারিক নিবাস চট্টগ্রামে। বাবার চাকরিসূত্রে কলকাতায় অবস্থানকালে নভেরার শৈশব কেটেছে সেখানেই। দেশ বিভাগের পর ঢাকায় চলে আসেন তিনি।

নভেরা ১৯৫১ সালে লন্ডনে ‘ক্যাম্বারওয়েল স্কুল অব আর্টস অ্যান্ড ক্র্যাফটস’-এ, ‘ডিপ্লোমা ইন মডেলিং ও স্কাল্পচার’ কোর্সে ভর্তি। সেখানে ডিপ্লোমা শেষ করে তিনি ইতালির ফ্লোরেন্স ও ভেনিসে ভাস্কর্য বিষয়ে শিক্ষা নেন। শিক্ষাজীবন শেষে ১৯৫৬ সালে তিনি দেশে ফেরেন। এ সময় অনেক উল্লেখযোগ্য ভাস্কর্য গড়েন তিনি। ১৯৭৩ সালে দেশ ত্যাগ করার পর প্যারিসে বসবাস করতে থাকেন। মৃত্যুর আগ পর্যন্ত তিনি সেখানেই স্বেচ্ছা নির্বাসন বেছে নেন। 

সম্পাদকীয় :

সম্পাদকঃ মো: ফারুক হোসেইন,

এক্সিকিউটিভ এডিটরঃ ড. আব্দুর রহিম খান,

প্রকাশকঃ মো: মতিউর রহমান।


অফিস :

অফিস : রুপায়ন জেড. আর প্লাজা (৯তলা), প্লট- ৪৬,রোড নং- ৯/এ, সাতমসজিদ রোড, ধানমন্ডি, ঢাকা- ১২০৯।

ইমেইল : info@banglann.com.bd, banglanewsnetwork@gmail.com

মোবাইল : +৮৮ ০২ ২২২২৪৬৯১৮, ০২২২২২৪৬৪৪৯