নামাজ ফার্সি শব্দ আবার সালাত বা সালাহ এটি আরবি শব্দ। ইসলাম ধর্মের একটি দৈনিক নিয়মিত ইবাদত। একটি নির্দিষ্ট পদ্ধতিতে নামাজ আদায় করতে হয় যা কুরআন ও হাদিসে বর্ণিত আছে। এটি মুসলমানদের জন্য প্রতিদিন অবশ্যকরণীয় একটি ধর্মীয় কাজ। তবে প্রতিদিন আবশ্যকরণীয় বা ফরজ ছাড়াও বিবিধ নামাজ রয়েছে যা সময়ভিত্তিক বা বিষয়ভিত্তিক। বাংলায় ওয়াজিব এর অর্থ কর্তব্য। যার উপর আমল করলে সাওয়াব পাওয়া যাবে আর পরিত্যাগ করলে শাস্তি পেতে হবে। ফরজের পরই ওয়াজিব এর স্থান।
নামাযের ওয়াজিবসমূহ :
১. সুরা ফাতিহা পুরা পড়া। – (বুখারি, হাদিস নং-৭৫৬)
২. সুরা ফাতিহার সঙ্গে অন্য কোনো সুরা মিলানো ।— (বুখারি, হাদিস নং-৭৭৬, মুসলিম, হাদিস নং-৪৫১) ৩. রুকু-সিজদায় দেরি করা।—(আবু দাউদ, হাদিস নং-৮৫৬)
৪. রুকু হতে সোজা হয়ে দাঁড়ানো। (আবু দাউদ, হাদিস নং-৮৫৮)
৫. দুই সিজদার মাঝখানে সোজা হয়ে বসা।– (প্রাগুক্ত)
৬. দরমিয়ানি বৈঠক। অর্থাৎ তিন অথবা চার রাকাত নামাযের প্রথম বৈধক করা।—(বুখারি, হাদিস নং-৮২৮)
৭. উভয় বৈঠকে আত্তাহিয়্যাতু পড়া। – (বুখারি, হাদিস নং-৮৩০, মুসলিম হাদিস নং-৪০২)
৮. ইমামের জন্য কিরাত আস্তে এবং জোরে পড়া। অর্থাৎ জোহর, আসর এবং দিনের বেলায় সুন্নাত ও নফল নামাযে কিরাত আস্তে পড়া এবং ফজর, মাগরিব, ইশা, জুমা, দুই ইদ, তারাবিহ, রমযান মাসের বিতর নামাযে কিরাত জোরে পাড়। (আবু দাউদ, হাদিস নং-৪১, মুসান্নাফে আবদুর রাযযাক, হাদিস নং-৪৭০০)
৯. বিতরের নামাযে দোয়ায়ে কুনুত পড়া (নাসায়ি শরিফ, হাদিস নং-১৬৯৯, ইবনে মাজাহ, হাদিস নং-১১৮২) ১০. দুই ইদের নামাযে অতিরিক্ত ছয় ছয় তাকবির বলা।—(আবু দাউদ, হাদিস নং-১১৫৩)
১১. ফরজ নামাযের প্রথম দুই রাকাতে কিরাত পড়া।—(বুখারি, হাদিস নং-৭৭৬, মুসলিম, হাদিস নং-৪৫১)
১২. প্রত্যেক রাকাতের ফরজগুলোর তারতিব ঠিক রাখা।
১৩. প্রত্যেক রাকাতের ওয়াজিবগুলোর তারতিব ঠিক রাখা।—(তিরমিযি, হাদিস নং-৩০২)
১৪. ‘আসসালামু আলাইকুম' বলে নামায শেষ করা।—(আবু দাউদ, হাদিস নং-৯৯৬)