প্রতিদিন আমরা যেসব পানীয় গ্রহণ করি—সকালের কফি থেকে শুরু করে রাতের হারবাল চা পর্যন্ত—তা আমাদের হজম ও অন্ত্রের স্বাস্থ্যের ওপর গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলে। কিছু পানীয় হজমে সহায়তা করে, আবার কিছু উপকারী ব্যাকটেরিয়ার বৃদ্ধিতে সাহায্য করে। তবে কীভাবে ও কখন পান করছি, সেটাও অনেক বড় বিষয়। ভুল পদ্ধতিতে পান করলে তা উপকারের বদলে ক্ষতি করতে পারে।
দিন শুরু করার জন্য হালকা গরম বা রুম টেম্পারেচারের পানি পান করা হজমের জন্য খুবই উপকারী। এটি অন্ত্রের গতিশীলতা বাড়ায় এবং মেটাবলিজম সক্রিয় করে। অপরদিকে বরফ ঠান্ডা পানি তাৎক্ষণিকভাবে সতেজতা দিলেও অন্ত্রের রক্তনালীগুলো সংকুচিত করে এবং হজমপ্রক্রিয়া ধীর করে দিতে পারে। তাই সকালে নিয়ম করে কিছুটা গরম পানি পান করা ভালো অভ্যাস।
কফি একটি জনপ্রিয় পানীয় যা স্বাভাবিকভাবেই অন্ত্রকে উদ্দীপিত করে এবং মলত্যাগ সহজ করে। এতে থাকা ক্যাফেইন অন্ত্রের পেশিগুলোর সংকোচন বাড়ায়। তবে খালি পেটে অতিরিক্ত কফি পান করলে অ্যাসিড রিফ্লাক্স, দুশ্চিন্তা বা অস্বস্তির সৃষ্টি হতে পারে। তাই দিনে এক বা দুই কাপের বেশি না খাওয়াই ভালো এবং সম্ভব হলে খাবারের পর খাওয়া উচিত।
চিয়া বা তুকমা (বেসিল সিড) বীজ ভিজিয়ে পান করলে এটি একটি জেলি জাতীয় আকার নেয়, যা হজমে সহায়তা করে। এতে থাকা উচ্চমাত্রার ফাইবার অন্ত্রে উপকারী ব্যাকটেরিয়ার খাদ্য হিসেবে কাজ করে, অর্থাৎ প্রিবায়োটিক হিসেবে ভূমিকা রাখে। তবে এগুলো ভালোভাবে ভিজিয়ে খাওয়া জরুরি এবং এর সঙ্গে চিনিযুক্ত মিষ্টি পানীয় মেশালে উপকারিতা কমে যেতে পারে।
হারবাল চা বহু প্রাচীনকাল থেকে জনপ্রিয়। এর মধ্যে হলুদ, আদা ও মৌরির মতো উপাদান থাকলে তা হজমে সহায়ক ও অন্ত্রের প্রদাহ কমাতে কার্যকর। হলুদে থাকে অ্যান্টি-ইনফ্ল্যামেটরি উপাদান, আদা বমিভাব ও গ্যাস কমায়, আর মৌরি হজমে আরাম দেয়। যেহেতু এসব চা ক্যাফেইন-মুক্ত, তাই দিনের যেকোনো সময় তা গ্রহণ করা যায়।
কম্বুচা একটি প্রোবায়োটিক পানীয়, যা অন্ত্রের ব্যাকটেরিয়ার ভারসাম্য রক্ষা করে এবং হজমপ্রক্রিয়াকে উন্নত করে। তবে অধিকাংশ বাণিজ্যিক কম্বুচা পানীয়ে অতিরিক্ত চিনি মেশানো থাকে, যা এর উপকারিতা অনেকাংশেই নষ্ট করে দেয়। তাই কম্বুচা কেনার সময় অবশ্যই লেবেল দেখে নিশ্চিত হতে হবে, যেন প্রতি সার্ভিংয়ে ৫ গ্রাম বা তার কম চিনি থাকে।
সবশেষে বলা যায়, প্রতিদিনের পানীয় আমাদের স্বাস্থ্যের এক অদৃশ্য কারিগর। সচেতনভাবে এগুলো বেছে নেওয়া ও সঠিকভাবে গ্রহণ করাই সুস্থ হজম ও ভালো অন্ত্রস্বাস্থ্যের চাবিকাঠি।
স্টাফ রির্পোটার
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন