এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষার উত্তরপত্র শিক্ষার্থীদের দিয়ে পূরণ করিয়ে তা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগে ঢাকা শিক্ষা বোর্ড আটজন পরীক্ষকের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিতে যাচ্ছে।
রোববার (২০ জুলাই) অভিযুক্ত শিক্ষকদের বিরুদ্ধে কারণ দর্শানোর নোটিস (শোকজ) জারি করে বোর্ড। বিষয়টি নিশ্চিত করে ঢাকা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক এস এম কামাল উদ্দিন হায়দার বলেন, “যেসব পরীক্ষক তাদের দায়িত্বে থাকা উত্তরপত্র শিক্ষার্থীদের দিয়ে পূরণ করিয়েছেন এবং সেগুলোর ছবি ফেসবুক ও টিকটকে ছড়িয়ে পড়েছে, তাদের শনাক্ত করে নোটিস পাঠানো হয়েছে। শোকজের জবাব পাওয়ার পর তাদের বিরুদ্ধে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।”
বোর্ড জানিয়েছে, অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে প্রমাণিত হলে তারা আজীবনের জন্য পাবলিক পরীক্ষার খাতা মূল্যায়ন থেকে বাদ পড়তে পারেন। এমনকি বোর্ড ও পাবলিক পরীক্ষা সংশ্লিষ্ট সব কাজ থেকেও আজীবনের জন্য বিরত রাখা হতে পারে। তাদের প্রতিষ্ঠান থেকে বরখাস্ত কিংবা দুই বছর পর্যন্ত জেল বা জরিমানা বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত করার বিধান রয়েছে।
অভিযুক্ত পরীক্ষকদের তালিকায় রয়েছেন:
- মধুছন্দা লিপি – বারৈচা কলেজ, নরসিংদী (এইচএসসি, বাংলা প্রথম পত্র)
- জাকির হোসাইন – হাজী ইউনুছ আলী কলেজ, সাভার (এইচএসসি, বাংলা দ্বিতীয় পত্র)
- রাকিবুল হাসান – ভাষা শহীদ আব্দুল জব্বার আনসার ভিডিপি স্কুল অ্যান্ড কলেজ, গাজীপুর (এইচএসসি, বাংলা দ্বিতীয় পত্র)
- মুরছানা আক্তার – রোকেয়া আহসান কলেজ, ডেমরা (এইচএসসি, ইংরেজি দ্বিতীয় পত্র)
- আবু বকর সিদ্দিক – মুন্সীনগর উচ্চ বিদ্যালয়, নবাবগঞ্জ (এসএসসি, গণিত)
- সমীরময় মন্ডল – রাজবাড়ী সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় (এসএসসি, গণিত)
- সাখাওয়াত হোসাইন আকন – যাত্রাবাড়ী আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজ (এসএসসি, ইসলাম ও নৈতিক শিক্ষা)
- মহসীন আলামীন – সেন্ট যোসেফস হাই স্কুল অ্যান্ড কলেজ (এসএসসি, উচ্চতর গণিত)
বোর্ড জানায়, এই ঘটনা শিক্ষার্থীদের মাঝে অসন্তোষ সৃষ্টি করেছে এবং বোর্ডের পেশাগত ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়েছে। জানা গেছে, গত বৃহস্পতিবার ঢাকা বোর্ডে এসএসসিতে অকৃতকার্য কিছু শিক্ষার্থী খাতার ছবি টিকটকে দেখতে পাওয়ার অভিযোগ এনে বিক্ষোভ করেছিল। এরই ধারাবাহিকতায় বোর্ড সব প্রধান পরীক্ষক ও পরীক্ষককে সতর্ক করে চিঠি দেয়।
চিঠিতে বলা হয়, পরীক্ষক বা প্রধান পরীক্ষক ছাড়া অন্য কারো দ্বারা বৃত্ত ভরাট করানো বা মূল্যায়ন ১৯৮০ সালের পরীক্ষা আইনে শাস্তিযোগ্য অপরাধ। বোর্ড জানিয়েছে, অভিযুক্তদের ৫ কর্মদিবসের মধ্যে পরীক্ষার নিয়ন্ত্রকের কাছে লিখিত জবাব দিতে হবে। এরপর প্রাপ্ত ব্যাখ্যার ভিত্তিতে বোর্ড চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবে।
স্টাফ রির্পোটার
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন