ঢাকা | |

সাড়ে পাঁচ বছরের প্রতীক্ষা শেষে ইবতেদায়ী শিক্ষার্থীদের জন্য উপবৃত্তি চালু

ঢাকা, ২২ মে ২০২৫: দীর্ঘ সাড়ে পাঁচ বছরের অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে আবারও উপবৃত্তি পেতে যাচ্ছে ইবতেদায়ী মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা।
  • আপলোড সময় : ২২ মে ২০২৫, সকাল ৯:৫৪ সময়
  • আপডেট সময় : ২২ মে ২০২৫, সকাল ৯:৫৪ সময়
সাড়ে পাঁচ বছরের প্রতীক্ষা শেষে ইবতেদায়ী শিক্ষার্থীদের জন্য উপবৃত্তি চালু

ঢাকা, ২২ মে ২০২৫: দীর্ঘ সাড়ে পাঁচ বছরের অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে আবারও উপবৃত্তি পেতে যাচ্ছে ইবতেদায়ী মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা। ২০২০ সালের শুরু থেকে হঠাৎ বন্ধ হয়ে যাওয়া এই উপবৃত্তি কার্যক্রম পুনরায় চালু করছে সরকার। প্রাথমিকভাবে ১৫১৯টি ইবতেদায়ী মাদ্রাসার ১ লাখ ৯৪ হাজারেরও বেশি শিক্ষার্থীকে এই সুবিধার আওতায় আনা হচ্ছে, যার জন্য বছরে ৩৫ কোটি টাকার বেশি খরচ হবে।

মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, ইবতেদায়ী মাদ্রাসার প্রথম থেকে পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থীরা মাসিক ১৫০ টাকা হারে বছরে ১৮০০ টাকা করে উপবৃত্তি পাবে। প্রাথমিকের শিক্ষার্থীরাও একই হারে উপবৃত্তি পেয়ে থাকে। তবে, প্রাথমিক স্তরে প্রাক-প্রাথমিকের শিক্ষার্থীরা মাসে ৫০ টাকা উপবৃত্তি পেলেও, ইবতেদায়ী পর্যায়ে এখনো প্রাক-প্রাথমিক চালু হয়নি।

মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক বেনজীর আহমেদ মঙ্গলবার জানিয়েছেন, চলতি বছরের জানুয়ারি মাস থেকেই শিক্ষার্থীদের হাতে উপবৃত্তির টাকা পৌঁছানোর পরিকল্পনা থাকলেও কারিগরি প্রস্তুতির কারণে কিছুটা বিলম্ব হয়েছে। তাই আগামী জুলাই মাস থেকে শিক্ষার্থীদের উপবৃত্তির টাকা পাঠানোর কাজ চলছে।

তথ্য যাচাই ও প্রক্রিয়া:
বেনজীর আহমেদ জানান, ইবতেদায়ী শিক্ষার্থীদের উপবৃত্তির আওতায় আনতে বর্তমানে তথ্য যাচাই চলছে। তাদের লাইভ সার্ভারও প্রস্তুত। অনুদানপ্রাপ্ত ১৫৯১টি ইবতেদায়ী মাদ্রাসার তথ্য উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তাদের কাছে পাঠানো হয়েছে যাচাইয়ের জন্য। এই তথ্যগুলো পাওয়ার পর প্রতিষ্ঠানপ্রধানদের সফটওয়্যারে শিক্ষার্থীদের তথ্য অন্তর্ভুক্ত করতে বলা হবে। এরপর যাচাই-বাছাই শেষে শিক্ষার্থীদের উপবৃত্তির জন্য নির্বাচন করা হবে।

শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের উচ্ছ্বাস:
সাড়ে পাঁচ বছরের প্রতীক্ষার অবসান হওয়ায় শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা আনন্দিত। স্বতন্ত্র ইবতেদায়ী মাদ্রাসা শিক্ষক ঐক্যজোট ও বাংলাদেশ স্বতন্ত্র ইবতেদায়ী মাদ্রাসা শিক্ষক পরিষদের মহাসচিব শামসুল আলম বলেন, "কোভিড-১৯ মহামারীর মধ্যে উপবৃত্তি বন্ধ হয়ে গেলে আমরা বিভিন্ন অফিসে ধরনা দিয়েছি, কিন্তু উপবৃত্তি চালু হয়নি। ইবতেদায়ী মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদের উপবৃত্তি দেওয়ার সরকারি বরাদ্দ থাকলেও আমরা ন্যায্য অধিকার থেকে বঞ্চিত হয়েছি।" তিনি দ্রুতই যেন শিক্ষার্থীদের হাতে উপবৃত্তির টাকা পৌঁছায়, সেই প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন এবং মিড-ডে মিল চালুরও দাবি জানান।

ঢাকার দোহারের মুকসেদপুর জামিয়া ইসলামিয়া স্বতন্ত্র ইবতেদায়ী মাদ্রাসার প্রধান হাফেজ মো. আব্দুল হান্নানও এই সিদ্ধান্তে উচ্ছ্বসিত। তিনি বলেন, "আগে আমরা প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের অধীনে উপবৃত্তি পেলেও সেটি বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। এখন কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগের তত্ত্বাবধানে উপবৃত্তি চালু হচ্ছে, এটা নিঃসন্দেহে ভালো খবর।"

বরাদ্দ ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা:
১ লাখ ৯৪ হাজার শিক্ষার্থীর উপবৃত্তিতে প্রতি মাসে ২ কোটি ৯১ লাখ টাকা এবং বছরে ৩৫ কোটি টাকা খরচ হবে। মাধ্যমিক পর্যায়ের মতো কয়েকটি ধাপে কয়েক মাসের উপবৃত্তির টাকা একবারে শিক্ষার্থীদের দেওয়া হবে। নির্বাচিত শিক্ষার্থীদের মোবাইল ব্যাংকিং অ্যাকাউন্টে টাকা পাঠানোর পরিকল্পনা রয়েছে।

সহকারী পরিচালক বেনজীর জানান, গত জানুয়ারি মাস থেকেই শিক্ষার্থীদের উপবৃত্তি দেওয়ার সিদ্ধান্ত ছিল এবং ৫০ কোটি টাকা বরাদ্দও ছিল। তবে লাইভ সার্ভার প্রস্তুত করতে সময় লেগে যাওয়ায় সে সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করা যায়নি। অর্থবছরের শেষ প্রান্তে এসে শিক্ষার্থী নির্বাচন প্রক্রিয়া শুরু না হওয়ায় উপবৃত্তির জন্য বরাদ্দ হওয়া টাকা ফেরত যাওয়ার শঙ্কাও রয়েছে। তিনি জানান, তারা চাচ্ছেন গত জানুয়ারি মাস থেকেই শিক্ষার্থীরা যেন টাকা পায় এবং জুনের মধ্যে নির্বাচিত শিক্ষার্থীদের তালিকা চূড়ান্ত করা গেলে শুরুতেই আগের ছয় মাসের টাকা পাবে শিক্ষার্থীরা। তবে, শিক্ষার্থী নির্বাচনে সময় লাগলে বরাদ্দের টাকা ফেরত যেতে পারে বলে তিনি শঙ্কা প্রকাশ করেন।
  • বিষয়:

নিউজটি আপডেট করেছেন: স্টাফ রির্পোটার।

বাংলা নিউজ নেটওয়ার্ক ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
কমেন্ট বক্স
প্রথমবারের মতো সৌদির তেলের খনিতে ইরানের ড্রোন হামলা

প্রথমবারের মতো সৌদির তেলের খনিতে ইরানের ড্রোন হামলা