ঢাকা | |
সংবাদ শিরোনাম :
শাহজালাল (রহ.) মাজারে ৫ম বারের মতো দানবাক্স ও ডেগ খুলে অর্থ গণনা শুরু প্রধানমন্ত্রীর জাপান সফরে বিনিয়োগ ও অর্থনৈতিক সহযোগিতায় নতুন গতির আশা টোকিওর একটি দলের প্রধান নেতা প্রকাশ্যে এমন চুমু দেওয়ার সংস্কৃতি চালু করেছেন: রাশেদ খাঁন সমাজে শান্তিশৃঙ্খলা রক্ষায় ইমাম সমাজ সর্বদাই অগ্রণী ভূমিকা পালন করছেন: জাতীয় ইমাম সম্মেলনে ধর্মমন্ত্রী কায়কোবাদ সড়ক-ফুটপাতে হকার বসলেই মামলা, মামলা ও মালামাল জব্দ: ডিএসসিসি প্রশাসকের সরকারকে বিব্রত করতে অপপ্রচার চালাচ্ছেন গোলাম পরওয়ার: রিজভী প্রধানমন্ত্রীর জাপান সফর ঘিরে ঢাকা-নারিতা রুটে বিমানের ফ্লাইট দ্বিগুণ অটোরিকশায় এসে আসিফ আকবরের গাড়িতে হামলা: পুলিশ রাষ্ট্রদূতকে ফি‌রিয়ে আনা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একান্ত সিদ্ধান্ত: শামা ওবায়েদ ইসলাম আমরা শান্তি মুচলেকায় স্বাক্ষর করব না: নেহা বোরা

প্রধানমন্ত্রীর জাপান সফরে বিনিয়োগ ও অর্থনৈতিক সহযোগিতায় নতুন গতির আশা টোকিওর

জাপানের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক কি এবার নতুন অর্থনৈতিক মোড় নিতে যাচ্ছে? প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের আসন্ন টোকিও সফর ঘিরে
  • আপলোড সময় : ২৪ অক্টোবর ২০২৬, বিকাল ৫:৩১ সময়
  • আপডেট সময় : ২৪ অক্টোবর ২০২৬, বিকাল ৫:৩১ সময়
প্রধানমন্ত্রীর জাপান সফরে বিনিয়োগ ও অর্থনৈতিক সহযোগিতায় নতুন গতির আশা টোকিওর

জাপানের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক কি এবার নতুন অর্থনৈতিক মোড় নিতে যাচ্ছে? প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের আসন্ন টোকিও সফর ঘিরে বিনিয়োগ, কর্মসংস্থান, অবকাঠামো উন্নয়ন এবং বাংলাদেশের পণ্যের জন্য জাপানের বাজার আরও উন্মুক্ত করার বিষয়ে বড় প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে। শুধু বৈঠক নয়, জাপানের শীর্ষ ব্যবসায়ী ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনা এবং গুরুত্বপূর্ণ শিল্পপ্রতিষ্ঠান পরিদর্শনেরও পরিকল্পনা রয়েছে। কিন্তু এই সফর থেকে বাংলাদেশের অর্থনীতির জন্য কী কী সুযোগ তৈরি হতে পারে?


জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির আমন্ত্রণে আগামী ২৬ থেকে ২৯ অক্টোবর জাপান সফর করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে এটিই তাঁর প্রথম জাপান সফর। দুই দেশের সরকার গত ২০ অক্টোবর আনুষ্ঠানিকভাবে সফরের ঘোষণা দেয়। সফরের দ্বিতীয় দিন, ২৭ অক্টোবর, টোকিওতে জাপানের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে সানায়ে তাকাইচির সঙ্গে উচ্চপর্যায়ের দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে বসবেন তারেক রহমান। এ উপলক্ষে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর সম্মানে মধ্যাহ্নভোজের আয়োজন করবেন জাপানের প্রধানমন্ত্রী। পররাষ্ট্রসচিব আসাদ আলম সিয়াম এ তথ্য জানিয়েছেন।


এই সফরকে দুই দেশের কৌশলগত অংশীদারত্ব আরও শক্তিশালী করার গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ হিসেবে দেখছে জাপান। ঢাকায় দেশটির দূতাবাসের অর্থনৈতিক বিভাগ জানিয়েছে, বিনিয়োগ বৃদ্ধি, ব্যবসায়িক আস্থা জোরদার এবং বাংলাদেশের উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে সহযোগিতা সম্প্রসারণ নিয়ে আলোচনা হবে। বিশেষ গুরুত্ব পাবে বাংলাদেশের বিনিয়োগ পরিবেশ উন্নত করা, অবকাঠামো খাতে সহযোগিতা বাড়ানো এবং দক্ষ জনশক্তি গড়ে তোলা। বাংলাদেশে নতুন কারখানা স্থাপন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং প্রযুক্তি ও দক্ষতা হস্তান্তরের মাধ্যমে শিল্প খাতকে এগিয়ে নেওয়ার বিষয়েও আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে।


সফরকালে প্রধানমন্ত্রী জাপান-বাংলাদেশ অর্থনৈতিক ফোরামে মূল বক্তব্য দেবেন। পাশাপাশি জাপানের ব্যবসায়ী নেতাদের সঙ্গে বৈঠকে বাণিজ্য সম্প্রসারণ ও নতুন বিনিয়োগের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা করবেন তিনি। জাপান-বাংলাদেশ পার্লামেন্টারি ফ্রেন্ডশিপ লিগ এবং দুই দেশের বাণিজ্যিক ও অর্থনৈতিক সহযোগিতাবিষয়ক প্রতিনিধিদের সঙ্গেও বৈঠকের পরিকল্পনা রয়েছে।


এ ছাড়া জাপানের আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থা, বৈদেশিক বাণিজ্য সংস্থা এবং আন্তর্জাতিক উন্নয়ন অর্থায়নকারী প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনার কথা রয়েছে। এসব বৈঠকে চলমান উন্নয়ন প্রকল্পের অগ্রগতি, নতুন অর্থায়ন এবং ভবিষ্যৎ সহযোগিতার ক্ষেত্রগুলো গুরুত্ব পেতে পারে। প্রধানমন্ত্রীর সম্ভাব্য কর্মসূচিতে জাপানের জ্বালানি অবকাঠামো ও শিল্পপ্রতিষ্ঠান পরিদর্শনও রয়েছে। এর মধ্যে চিবা অঞ্চলের ফুতসু শহরের একটি তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস টার্মিনাল ও বিদ্যুৎকেন্দ্র, পোশাক প্রতিষ্ঠান ইউনিক্লোর সদর দপ্তর এবং নাগোয়া শহরে টয়োটার একটি কারখানা পরিদর্শনের পরিকল্পনা রয়েছে।


বাংলাদেশ-জাপান অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তি বাস্তবায়নও সফরের গুরুত্বপূর্ণ আলোচ্য বিষয় হতে পারে। ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে স্বাক্ষরিত এই চুক্তির সুফল কাজে লাগিয়ে জাপানের বাজারে বাংলাদেশের পণ্যের প্রবেশাধিকার বাড়ানো এবং দুই দেশের বাণিজ্য সম্প্রসারণের উপায় নিয়ে আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে। এ ছাড়া কৃষি, মৎস্য, মানবসম্পদ উন্নয়ন, দক্ষতা বৃদ্ধি, বেসামরিক বিমান চলাচল, পরিবেশ সংরক্ষণ ও স্থানীয় সরকার ব্যবস্থার আধুনিকায়নসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর কিংবা সহযোগিতার বিষয়ে ঘোষণা আসতে পারে।


অর্থনৈতিক আলোচনার পাশাপাশি আঞ্চলিক শান্তি ও স্থিতিশীলতা, রোহিঙ্গা সংকটের টেকসই সমাধান এবং জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় সহযোগিতার বিষয়ও আলোচনায় আসতে পারে। বাংলাদেশের অবকাঠামো উন্নয়নে জাপানের দীর্ঘদিনের ভূমিকা রয়েছে। ঢাকার মেট্রোরেল, হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল এবং মাতারবাড়ী এলাকার অবকাঠামো উন্নয়ন এর উল্লেখযোগ্য উদাহরণ।


তবে সফরের প্রকৃত সাফল্য নির্ভর করবে আলোচনার পর কী কী সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় এবং সেগুলো কতটা কার্যকরভাবে বাস্তবায়িত হয়, তার ওপর। নতুন বিনিয়োগ, কর্মসংস্থান, প্রযুক্তি হস্তান্তর ও রপ্তানি বৃদ্ধির ক্ষেত্রে দৃশ্যমান অগ্রগতি হলে বাংলাদেশ-জাপান অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরও গভীর হওয়ার সুযোগ তৈরি হবে।

  • বিষয়:

নিউজটি আপডেট করেছেন: নিউজ ডেস্ক।

বাংলা নিউজ নেটওয়ার্ক ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ
টঙ্গীতে শিশুকন্যাকে শ্লীলতাহানির অভিযোগে মাদরাসাশিক্ষক আটক, থানায় দুই পক্ষের মামলা

টঙ্গীতে শিশুকন্যাকে শ্লীলতাহানির অভিযোগে মাদরাসাশিক্ষক আটক, থানায় দুই পক্ষের মামলা