একদিকে বিশ্ব ফুটবলে অসামান্য কীর্তি, অন্যদিকে মানবিক কাজের স্বীকৃতি—সব মিলিয়ে আবারও ইতিহাসের পাতায় নিজের নাম লিখলেন লিওনেল মেসি। তবে এই অর্জনের পর সবচেয়ে আবেগঘন মুহূর্ত তৈরি হয়েছে তাঁর সাবেক ক্লাব বার্সেলোনার বার্তায়। দীর্ঘদিনের সম্পর্ক, বিদায়ের তিক্ততা আর অতীতের সব আলোচনা পেছনে ফেলে মেসির সাফল্যে গর্ব প্রকাশ করেছে কাতালান ক্লাবটি।
২০২৬ সালের মর্যাদাপূর্ণ প্রিন্সেস অব আস্তুরিয়াস পুরস্কার জিতেছেন আর্জেন্টাইন মহাতারকা লিওনেল মেসি। ক্রীড়াক্ষেত্রে অসামান্য অবদান এবং মানবিক কর্মকাণ্ডের স্বীকৃতিস্বরূপ তাঁকে এই সম্মাননা দেওয়া হয়েছে। আয়োজকদের ঘোষিত তথ্য অনুযায়ী, প্রথম ফুটবলার হিসেবে এই পুরস্কার জয়ের কৃতিত্ব অর্জন করেছেন তিনি। শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর, স্পেনের ওভিয়েদো শহরের কাম্পোয়াম থিয়েটারে এক অনুষ্ঠানে স্পেনের সিংহাসনের উত্তরাধিকারী রাজকন্যা লিওনরের হাত থেকে পুরস্কার গ্রহণ করেন ৩৯ বছর বয়সী মেসি। তাঁর এই অর্জনের পরপরই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অভিনন্দন জানিয়ে বিশেষ বার্তা প্রকাশ করে বার্সেলোনা।
ক্লাবটি জানায়, মেসির অসাধারণ প্রতিভার জন্য এই স্বীকৃতি পুরোপুরি প্রাপ্য। মাঠে ও মাঠের বাইরে তাঁর অবদান বিশ্ব ফুটবলে স্থায়ী ছাপ রেখে গেছে। খেলাধুলার প্রতি অঙ্গীকার, অসাধারণ নৈপুণ্য এবং মানবিক সংহতির মাধ্যমে তিনি বিশ্বজুড়ে এক অনন্য মানদণ্ড তৈরি করেছেন। বার্সেলোনা আরও স্মরণ করিয়ে দিয়েছে, মেসির দীর্ঘ ও সফল ক্যারিয়ারে ক্লাবটি ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি অংশ। এই দুই পক্ষের সম্পর্ক কেবল মাঠের সাফল্যের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; বরং তা ক্লাবের ইতিহাস ও ঐতিহ্যের অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে থাকবে বলেও জানিয়েছে তারা।
বার্সেলোনার হয়ে দীর্ঘ সময় খেলেছেন মেসি। এই ক্লাবেই বিশ্ব ফুটবলের অন্যতম সেরা তারকা হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেন তিনি। জিতেছেন অসংখ্য শিরোপা ও ব্যক্তিগত সম্মাননা। তবে ক্লাব ছাড়ার সময় নানা আলোচনা ও আবেগের জন্ম হয়েছিল। নতুন এই অর্জনে বার্সেলোনার উষ্ণ অভিনন্দন তাই ফুটবলপ্রেমীদের কাছে বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে।
এদিকে, মেসিকে এই পুরস্কার দেওয়া নিয়ে স্পেনে বিতর্কও তৈরি হয়েছিল বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এর আগে আর্জেন্টিনা ও স্পেনের মধ্যকার বিশ্বকাপ ফাইনাল ঘিরে উত্তেজনার পর পুরস্কার প্রত্যাহারের দাবিতে কিছু আবেদন জমা পড়ে। তবে শেষ পর্যন্ত প্রিন্সেস অব আস্তুরিয়াস ফাউন্ডেশন মেসির নামই চূড়ান্ত রাখে। সব বিতর্কের ঊর্ধ্বে মেসির এই সম্মাননা তাঁর দীর্ঘ ফুটবলজীবন, অসাধারণ অর্জন এবং মানবিক অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। আর সাবেক ক্লাব বার্সেলোনার অভিনন্দন বার্তায় স্পষ্ট হয়েছে, সময় বদলালেও মেসির সঙ্গে ক্লাবটির ঐতিহাসিক বন্ধন এখনো বিশেষ গুরুত্ব বহন করে।
নিউজ ডেস্ক
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন