ঢাকা | |

ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে নাগরিকের সমান অধিকার নিশ্চিত করা সরকারের অগ্রাধিকার: রিজভী

ধর্মীয় পরিচয় ভিন্ন হতে পারে, কিন্তু দেশের প্রতিটি নাগরিকের অধিকার ও নিরাপত্তা সমান—এমন বার্তা দিয়ে এবার সরকারের অগ্রাধিকারের
  • আপলোড সময় : ১৯ অক্টোবর ২০২৬, সকাল ৯:৫৬ সময়
  • আপডেট সময় : ১৯ অক্টোবর ২০২৬, সকাল ৯:৫৬ সময়
ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে নাগরিকের সমান অধিকার নিশ্চিত করা সরকারের অগ্রাধিকার: রিজভী

ধর্মীয় পরিচয় ভিন্ন হতে পারে, কিন্তু দেশের প্রতিটি নাগরিকের অধিকার ও নিরাপত্তা সমান—এমন বার্তা দিয়ে এবার সরকারের অগ্রাধিকারের কথা তুলে ধরলেন বিএনপির জ্যেষ্ঠ নেতা রুহুল কবির রিজভী। তাঁর দাবি, ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সবার ধর্মীয় স্বাধীনতা, নিরাপত্তা এবং সমান অধিকার নিশ্চিত করাই প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকারের অন্যতম প্রধান অগ্রাধিকার।


রোববার, ১৮ অক্টোবর রাজধানীর ধানমণ্ডিতে সার্বজনীন পূজা উদযাপন কমিটির উদ্যোগে আয়োজিত শারদীয় দুর্গাপূজা উৎসবে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা, বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য ও ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী। তিনি বলেন, বাংলাদেশ হিন্দু, মুসলমান, বৌদ্ধ ও খ্রিস্টানসহ সব ধর্মের মানুষের দেশ। প্রত্যেক নাগরিকের নিজ নিজ ধর্মীয় বিশ্বাস অনুসরণ করা এবং ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান পালনের স্বাধীনতা সাংবিধানিক অধিকার। এই অধিকার রক্ষার পাশাপাশি সবার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকার আন্তরিকভাবে কাজ করছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।


রিজভী আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকার দেশে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখা এবং সনাতন ধর্মাবলম্বীদের প্রধান ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে উদযাপনের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছে। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, এ বছর পূজা উপলক্ষে সরকারি অনুদান, ছুটি ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা বাড়ানো হয়েছে। পাশাপাশি সনাতন ধর্মাবলম্বী নেতাদের বিভিন্ন দাবি ও প্রত্যাশার প্রতিও সরকার ইতিবাচক সাড়া দিয়েছে। দেশের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে বিএনপির এই নেতা বলেন, পরাজিত ফ্যাসিবাদী শক্তি দেশে অস্থিতিশীলতা তৈরি এবং সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নষ্ট করার ষড়যন্ত্র করছে বলে তিনি মনে করেন। এ ধরনের পরিস্থিতি মোকাবিলায় সবাইকে ঐক্যবদ্ধ ও সচেতন থাকার আহ্বান জানান তিনি।


বিশেষ করে গুজব, অপপ্রচার এবং উসকানিমূলক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে কেউ যাতে ধর্মীয় সম্প্রীতি বিনষ্ট করতে না পারে, সে বিষয়ে সতর্ক থাকার ওপর গুরুত্ব দেন রিজভী। তাঁর মতে, ধর্মীয় পরিচয় আলাদা হলেও দেশের নাগরিক হিসেবে সবার জাতীয় পরিচয় অভিন্ন। পারস্পরিক শ্রদ্ধা, সহনশীলতা ও সৌহার্দ্য বজায় রেখেই একটি শান্তিপূর্ণ ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব।


তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশে দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা ধর্মীয় সম্প্রীতির ঐতিহ্য যেকোনো মূল্যে অক্ষুণ্ণ রাখতে হবে। ভিন্ন ধর্মের মানুষের মধ্যে পারস্পরিক সম্মান ও সহাবস্থানই দেশের শান্তি এবং স্থিতিশীলতা বজায় রাখার অন্যতম ভিত্তি। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির গবেষণাবিষয়ক সম্পাদক কৃষিবিদ শামীম এবং জাতীয় নির্বাহী কমিটির অর্থনৈতিক বিষয়ক সহসম্পাদক মাহমুদুর রহমান সুমন। এ ছাড়া পূজা উদযাপন কমিটির নেতৃবৃন্দ, সনাতন ধর্মাবলম্বী সম্প্রদায়ের প্রতিনিধি এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের নেতারাও অনুষ্ঠানে অংশ নেন।


ধর্মীয় স্বাধীনতা, নাগরিকের সমান অধিকার এবং সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি—এই তিন বিষয়কে সামনে রেখে রিজভীর বক্তব্যে উঠে এসেছে শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের আহ্বান। এখন এসব অঙ্গীকার বাস্তবে কতটা কার্যকর হয়, তা নির্ভর করবে সব নাগরিকের নিরাপত্তা ও অধিকার নিশ্চিত করার ধারাবাহিক পদক্ষেপের ওপর।

  • বিষয়:

নিউজটি আপডেট করেছেন: নিউজ ডেস্ক।

বাংলা নিউজ নেটওয়ার্ক ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
কমেন্ট বক্স
'ইন্ডিয়া' জোটের রাজপথের আন্দোলনে থালাপতি বিজয়ের দল

'ইন্ডিয়া' জোটের রাজপথের আন্দোলনে থালাপতি বিজয়ের দল