ইসরায়েলের তেল আবিব থেকে অস্ট্রিয়ার ভিয়েনার উদ্দেশে উড়াল দিয়েছিল যাত্রীবাহী একটি বিমান। কিন্তু গন্তব্যে পৌঁছানোর আগেই আসে বোমা হামলার হুমকি। এরপর মুহূর্তেই বদলে যায় বিমানের গতিপথ। শেষ পর্যন্ত যুদ্ধবিমানের পাহারায় বুলগেরিয়ার রাজধানী সোফিয়ায় জরুরি অবতরণ করতে বাধ্য হয় বিমানটি। তবে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, বিমানটিতে থাকা সব যাত্রী ও ক্রুকে নিরাপদে নামিয়ে আনা হয়েছে।
ঘটনাটি ঘটে রোববার, ১৯ অক্টোবর। অস্ট্রিয়ান এয়ারলাইন্সের ওএস ৮২ নম্বর ফ্লাইটটি তেল আবিবের বেন গুরিয়ন বিমানবন্দর থেকে ভিয়েনার উদ্দেশে যাত্রা শুরু করে। বিমানটি যখন রোমানিয়া সীমান্তের কাছাকাছি পৌঁছায়, তখন সেটিতে বোমা হামলার হুমকি পাওয়া যায় বলে জানায় বুলগেরিয়ার পরিবহন মন্ত্রণালয়। পরিস্থিতির গুরুত্ব বিবেচনায় দ্রুত পদক্ষেপ নেয় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। এয়ারবাস এ৩২০-২০০ মডেলের বিমানটিকে নিরাপদে অবতরণ করানোর জন্য একটি মিগ-২৯ যুদ্ধবিমান পাহারা দেয়। পরে বিমানটি বুলগেরিয়ার রাজধানী সোফিয়ার ভাসিল লেভস্কি বিমানবন্দরে জরুরি অবতরণ করে।
বিমানটিতে ছয়জন ক্রু সদস্যসহ মোট ৫৭ জন ছিলেন। এর মধ্যে ৫১ জন যাত্রী এবং ছয়জন ক্রু। অবতরণের পর সবাইকে নিরাপদে বিমান থেকে নামিয়ে আনা হয়। এখন পর্যন্ত এই ঘটনায় কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। ঘটনার পরপরই তদন্ত শুরু করেছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। কীভাবে বোমা হামলার হুমকি এল, হুমকিটির পেছনে কারা রয়েছে এবং এটি বাস্তব কোনো বিপদের ইঙ্গিত ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্ত শেষ হলে যাত্রীদের বিকল্প ফ্লাইটে ভিয়েনায় পাঠানোর ব্যবস্থা করা হবে বলে জানিয়েছে এয়ারলাইন্স কর্তৃপক্ষ।
বিমান চলাচলের তথ্য পর্যবেক্ষণকারী ওয়েবসাইটগুলোর তথ্য অনুযায়ী, বিমানটি বেন গুরিয়ন বিমানবন্দর থেকে উড্ডয়নের পর জরুরি বার্তা পাঠায় এবং এরপর সোফিয়ার দিকে গতিপথ পরিবর্তন করে। ঘটনাটি মোকাবিলায় একটি বিশেষ সংকট ব্যবস্থাপনা দলও গঠন করা হয়েছে। এদিকে, এর আগের মাসে আরেকটি বিমানকে ঘিরেও উদ্বেগজনক ঘটনা ঘটেছিল। সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে তেল আবিবগামী ফ্লাইদুবাইয়ের একটি বিমানে সহকারী পাইলটের বিরুদ্ধে আত্মঘাতী হামলার চেষ্টা চালানোর অভিযোগ ওঠে। ওই ঘটনার পর বিমানটি সৌদি আরবে জরুরি অবতরণে বাধ্য হয়।
সেই ঘটনার পর ইসরায়েল সরকার দেশটিতে আসা বিমানগুলোর পাইলটদের পরিচয় নতুন করে যাচাই করার নির্দেশ দেয় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। সব মিলিয়ে, তেল আবিব থেকে ভিয়েনাগামী বিমানে বোমা হামলার হুমকি এবং যুদ্ধবিমানের পাহারায় জরুরি অবতরণের ঘটনা ইউরোপ ও মধ্যপ্রাচ্যের আকাশপথের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে। তবে এই ঘটনায় যাত্রী ও ক্রুদের সবাই নিরাপদে থাকায় বড় ধরনের বিপর্যয় এড়ানো সম্ভব হয়েছে।
সূত্র: আল জাজিরা।
নিউজ ডেস্ক
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন