চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংকে ঘিরে হঠাৎই ছড়িয়ে পড়েছে গুরুতর অসুস্থতার খবর। দাবি করা হচ্ছে, নয়াদিল্লিতে ব্রিকস সম্মেলনের সময় তিনি জ্ঞান হারিয়েছিলেন, পরে স্ট্রোক করে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। কিন্তু এই দাবির সত্যতা নিয়ে এখন বড় প্রশ্ন—কারণ এখন পর্যন্ত এর পক্ষে কোনো নির্ভরযোগ্য প্রমাণ বা সরকারি নিশ্চিতকরণ পাওয়া যায়নি। চীনা বিরোধী নেতা ওয়ানজুন শিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দাবি করেছেন, ব্রিকস সম্মেলনের সময় শি জিনপিং হঠাৎ জ্ঞান হারান। তার সঙ্গে থাকা চিকিৎসকেরা জরুরি চিকিৎসা দেওয়ার পর বিশেষ বিমানে তাকে বেইজিংয়ে ফিরিয়ে নেওয়া হয় বলেও দাবি করেন তিনি। এরপর সামরিক হেলিকপ্টারে করে তাকে বেইজিংয়ের ৩০১ হাসপাতালে নেওয়া এবং সেখানে গুরুতর স্ট্রোক ধরা পড়ার কথাও বলা হয়েছে। তবে এসব দাবির কোনোটিই স্বাধীনভাবে যাচাই করা যায়নি। তার পোস্টে পরে একটি কমিউনিটি নোটও যুক্ত করা হয়, যেখানে দাবিগুলোকে প্রমাণহীন ও বাস্তব তথ্যের সঙ্গে অসঙ্গতিপূর্ণ বলা হয়েছে।
শি জিনপিং ১২ সেপ্টেম্বর নয়াদিল্লিতে ১৮তম ব্রিকস সম্মেলনে যোগ দিয়েছিলেন। সম্মেলনের ফাঁকে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠকও করেন তিনি। সেখানে দুই দেশের সম্পর্ক, সীমান্ত পরিস্থিতি ও বাণিজ্যসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়। তবে সম্মেলনের পর মোদির দেওয়া নৈশভোজে শি জিনপিং উপস্থিত ছিলেন না। তার বদলে চীনের প্রতিনিধিত্ব করেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই। শির নৈশভোজে অনুপস্থিতির কোনো আনুষ্ঠানিক কারণ জানানো হয়নি। এরপর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার স্বাস্থ্য নিয়ে নানা জল্পনা শুরু হয়।
এদিকে শির স্বাস্থ্য নিয়ে গুঞ্জনের বিপরীতে চীনের সরকারি তথ্য বলছে, তিনি ১৩ সেপ্টেম্বর ব্রিকস সম্মেলন শেষে বেইজিংয়ে ফিরে গেছেন। চীনের সরকারি সূত্র অনুযায়ী, রাজনৈতিক ব্যুরোর স্থায়ী কমিটির সদস্য কাই ছি এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ইসহ অন্যান্য কর্মকর্তারাও একই বিমানে তার সঙ্গে ফিরেছেন। এখন পর্যন্ত চীন বা ভারতের কোনো সরকারি সূত্রই শি জিনপিংয়ের জ্ঞান হারানো, স্ট্রোক, অস্ত্রোপচার কিংবা ৩০১ হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার খবর নিশ্চিত করেনি। ফলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া এই দাবিগুলোকে আপাতত অযাচাইকৃত গুঞ্জন হিসেবেই দেখা হচ্ছে।
অর্থাৎ, শি জিনপিং অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন—এমন খবর ছড়িয়ে পড়লেও এখন পর্যন্ত নির্ভরযোগ্য তথ্য সেই দাবি নিশ্চিত করছে না। বরং প্রকাশ্য সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ব্রিকস সম্মেলন শেষে তিনি স্বাভাবিক সূচি অনুযায়ী বেইজিংয়ে ফিরে গেছেন।
নিউজ ডেস্ক
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন