কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ীতে বাড়ির আঙিনার একটি আমগাছের উঁচু মগডালে অচেতন অবস্থায় পাওয়া গেছে ২১ বছর বয়সী এক গৃহবধূকে। পরে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা বিশেষ কৌশলে তাকে গাছ থেকে নিরাপদে নিচে নামিয়ে আনেন। সোমবার রাতে উপজেলার বড়ভিটা ইউনিয়নের জেলেপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। গৃহবধূর নাম বৃষ্টি আক্তার। তিনি ওই এলাকার মো. জিলহানির স্ত্রী।
স্থানীয়রা জানান, রাতে বাড়ির আঙিনায় আমগাছের বেশ উঁচু একটি ডালে বৃষ্টি আক্তারকে অচেতন অবস্থায় দেখতে পান তারা। তাকে নিজেরা নামানোর চেষ্টা করেও ব্যর্থ হন। পরে বিষয়টি ফুলবাড়ী ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল স্টেশনকে জানানো হয়। ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়লে আশপাশের এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে ঘটনাস্থলে শত শত উৎসুক মানুষ ভিড় করেন।
খবর পেয়ে রাত আটটার দিকে ফায়ার সার্ভিসের একটি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান শুরু করে। প্রায় ২০ থেকে ২৫ মিনিটের প্রচেষ্টায় বিশেষ কৌশল ব্যবহার করে গাছের মগডাল থেকে অচেতন গৃহবধূকে নিরাপদে নিচে নামিয়ে আনা হয়। পরে তাকে পরিবারের সদস্যদের কাছে হস্তান্তর করা হয়। কিছুক্ষণ পর বৃষ্টি আক্তারের জ্ঞান ফিরে আসে বলে জানা গেছে। তবে কীভাবে তিনি আমগাছের এত উঁচু ডালে উঠলেন, কিংবা সেখানে গিয়ে কী কারণে অচেতন হয়ে পড়লেন—তা তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি। জ্ঞান ফিরে আসার পরও এ বিষয়ে তিনি কোনো তথ্য দিতে পারেননি।
স্থানীয় বাসিন্দা মিলন চন্দ্র রায় ও লোকমান হোসেন জানান, বৃষ্টি আক্তারকে গাছের ওপর অচেতন অবস্থায় দেখতে পেয়ে তারা দ্রুত ঘটনাস্থলে যান। পরে ফায়ার সার্ভিসকে খবর দেওয়া হলে কর্মীরা এসে তাকে উদ্ধার করেন। এদিকে ঘটনাটি নিয়ে এলাকায় নানা ধরনের আলোচনা শুরু হয়েছে। স্থানীয়দের কেউ কেউ এটিকে অলৌকিক ঘটনা কিংবা জিন-পরীর প্রভাব বলে ধারণা করছেন। তবে এমন দাবির পক্ষে কোনো নির্ভরযোগ্য প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
ফুলবাড়ী ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল স্টেশনের ফায়ার লিডার আবুল হাসান জানান, খবর পেয়ে রাত আটটার দিকে তাদের একটি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে। পরে প্রায় ২০ থেকে ২৫ মিনিটের চেষ্টায় গাছের মগডাল থেকে ওই গৃহবধূকে নিরাপদে উদ্ধার করা হয়। ঘটনাটি কীভাবে ঘটেছে, তা এখনো স্পষ্ট নয়। বৃষ্টি আক্তার সুস্থ হওয়ার পর তার কাছ থেকে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া গেলে বিষয়টির প্রকৃত কারণ জানা যেতে পারে।
নিউজ ডেস্ক
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন