বাংলাদেশের অন্যতম বৃহত্তম জলাভূমি চলনবিল এলাকায় পরিবেশবান্ধব পর্যটন বা ইকো ট্যুরিজম গড়ে তোলার বিষয়টি বিবেচনা করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী আফরোজা খানম রিতা। শনিবার দুপুরে চলনবিলের কেন্দ্রস্থল হিসেবে পরিচিত সিরাজগঞ্জের তাড়াশ উপজেলার মান্নাননগর ও দোবিলা এলাকা পরিদর্শনকালে এ কথা জানান তিনি।
পর্যটনমন্ত্রী বলেন, চলনবিলে যেসব স্থাপনা বা পর্যটনকেন্দ্র গড়ে তোলা হবে, সেগুলো অবশ্যই লাভজনক ও টেকসই হতে হবে। একই সঙ্গে এসব উদ্যোগ থেকে আয় হচ্ছে কি না, সেটিও বিবেচনায় রাখতে হবে। তিনি বলেন, পর্যটনকেন্দ্র নির্মাণের মূল উদ্দেশ্য শুধু দর্শনার্থীদের আকৃষ্ট করা নয়। এর মাধ্যমে স্থানীয় মানুষের কর্মসংস্থান ও অর্থনৈতিক উন্নয়নের সুযোগ তৈরি করতে হবে। অর্থাৎ পর্যটন অবকাঠামো যেন স্থানীয় জনগণের আয় ও উন্নয়নের অন্যতম উৎস হয়ে ওঠে, সেদিকে গুরুত্ব দেওয়া হবে।
আফরোজা খানম রিতা বলেন, বাংলাদেশের বৃহত্তম বিল হিসেবে পরিচিত চলনবিলের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য পর্যটকদের আকৃষ্ট করার মতো। একই সঙ্গে চলনবিল ঘিরে থাকা নাটোর, সিরাজগঞ্জ ও পাবনার বিভিন্ন এলাকা ঐতিহাসিক স্থাপনা ও পুরাকীর্তিতে সমৃদ্ধ। তিনি আরও বলেন, চলনবিলের জীববৈচিত্র্য, প্রাকৃতিক পরিবেশ এবং স্থানীয় সংস্কৃতি সম্পর্কে জানারও অনেক সুযোগ রয়েছে। এসব সম্পদ শুধু পর্যটনের জন্য নয়, বরং দেশের জাতীয় সম্পদ হিসেবেও গুরুত্বপূর্ণ।
পরিদর্শনকালে মন্ত্রী তাড়াশ উপজেলার বিভিন্ন দর্শনীয় স্থান ও পর্যটন সম্ভাবনা নিয়ে একটি তথ্যচিত্র দেখেন। এ সময় স্থানীয় সংসদ সদস্য মো. আয়নুল হক, পর্যটন করপোরেশনের চেয়ারম্যান মো. শামিমুজ্জামান এবং তাড়াশ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নুসরাত জাহানসহ সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত ছিলেন। চলনবিলে পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা করে পর্যটন অবকাঠামো গড়ে তোলা গেলে একদিকে যেমন দেশি-বিদেশি পর্যটকদের আকৃষ্ট করা সম্ভব হবে, অন্যদিকে স্থানীয় জনগণের জন্য নতুন কর্মসংস্থান ও আয়ের সুযোগও তৈরি হতে পারে।
নিউজ ডেস্ক
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন