দীর্ঘদিন ধরে অবসর ও কল্যাণ সুবিধার টাকা না পেয়ে চরম আর্থিক সংকটে থাকা এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের জন্য বড় উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের পাওনা পরিশোধে এককালীন ২ হাজার কোটি টাকা বিশেষ বরাদ্দ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশে এই অর্থ দ্রুত ছাড় করতে অর্থ মন্ত্রণালয়কে বলা হয়েছে। আগামী ১৫ আগস্ট অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের মধ্যে একযোগে অবসর ও কল্যাণের টাকা বিতরণের কর্মসূচি উদ্বোধনের কথা রয়েছে।
এই উদ্যোগের আওতায় অবসর সুবিধা বোর্ডের প্রায় ৭০ হাজার এবং কল্যাণ ট্রাস্টের প্রায় ৪৪ হাজার শিক্ষক-কর্মচারী অর্থ পেতে পারেন। এ বিষয়ে বিস্তারিত জানাতে আগামী ১৩ আগস্ট শিক্ষামন্ত্রীর সংবাদ সম্মেলন করার কথা রয়েছে। এবার প্রথমবারের মতো ‘আইবাস প্লাস প্লাস’ ব্যবস্থার মাধ্যমে সরাসরি উপকারভোগীদের ব্যাংক হিসাবে টাকা পাঠানো হবে। ফলে দালাল বা মধ্যস্বত্বভোগীদের অর্থ নেওয়ার সুযোগ থাকবে না।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, দীর্ঘদিন ধরে অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক-কর্মচারীরা নিজেদের প্রাপ্য অর্থের জন্য অপেক্ষা করছিলেন। অনেকে চিকিৎসা, সংসার পরিচালনা কিংবা সন্তানের পড়াশোনার খরচ মেটাতে ঋণের বোঝায় পড়েছেন। আবার অনেকে পাওনা অর্থ হাতে পাওয়ার আগেই মারা গেছেন। জানা গেছে, অবসর ও কল্যাণ সুবিধার অর্থের একটি বড় অংশ চাকরির সময় শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতন থেকে কেটে রাখা হয়। অবসর সুবিধার জন্য মূল বেতনের ৬ শতাংশ এবং কল্যাণ সুবিধার জন্য ৪ শতাংশ অর্থ নেওয়া হয়। শিক্ষার্থীদের কাছ থেকেও নির্ধারিত অর্থ সংগ্রহ করে এই দুই তহবিলে জমা দেওয়া হয়।
তবে দীর্ঘদিন ধরে তহবিল ব্যবস্থাপনায় সংকট, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে অর্থ আটকে থাকা এবং পর্যাপ্ত সরকারি বরাদ্দ না থাকায় অবসর ও কল্যাণ সুবিধা পরিশোধে বড় ধরনের জট তৈরি হয়। ফলে ২০২২ সাল থেকে অবসরে যাওয়া অনেক শিক্ষক-কর্মচারী এখনো তাদের পাওনা অর্থের অপেক্ষায় রয়েছেন। এদিকে অবসরকালীন সুবিধা নিয়ে আড়াই বছর আগেই হাইকোর্ট নির্দেশ দিয়েছিলেন, অবসরের ছয় মাসের মধ্যে শিক্ষক-কর্মচারীদের অবসর সুবিধা দিতে হবে। আদালত বলেছিলেন, অবসর ভাতা পাওয়ার জন্য শিক্ষকদের বছরের পর বছর দ্বারে দ্বারে ঘুরতে হতে পারে না।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, গত বৃহস্পতিবার প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন, প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষাবিষয়ক উপদেষ্টা ড. মাহদী আমিন এবং শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব আবদুল খালেকের বৈঠক হয়। সেখানেই শিক্ষক-কর্মচারীদের পাওনা পরিশোধে এককালীন ২ হাজার কোটি টাকা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। শিক্ষক নেতারা মনে করছেন, সরকারের এই উদ্যোগের ফলে দীর্ঘদিন আর্থিক সংকটে থাকা অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের জীবনে স্বস্তি ফিরবে। একই সঙ্গে সরাসরি ব্যাংক হিসাবে অর্থ পাঠানোর ব্যবস্থা হলে অর্থ বিতরণেও স্বচ্ছতা নিশ্চিত হবে।
নিউজ ডেস্ক
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন