ঢাকা | |
সংবাদ শিরোনাম :
যন্তর মন্তর বিক্ষোভের স্থান নয়: ৩টি নতুন স্থান নির্ধারণ করল দিল্লি পুলিশ হেলথ কার্ড সংগ্রহে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী ও মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য নতুন নির্দেশনা ভারতের একটি রাজনৈতিক দলের বট অ্যাকাউন্ট থেকে গালাগাল করা হচ্ছে: আসিফ এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের নতুন স্কেলের বেতন পেতে বিলম্বের আশঙ্কা শাহজালালে আচারের বয়ামে মিললো হীরা, সোনা, প্লাটিনাম ও রুবি আন্দোলনকারীদের দেশবিরোধী আখ্যা কঙ্গনার, দেখছেন অস্থিতিশীল করার ষড়যন্ত্র বিটিআরসি কর্মকর্তার জবানবন্দিতে ইন্টারনেট বন্ধের নেপথ্য কাহিনী নাটোর স্টেশনে চুরি হওয়া সেই জার্মান পর্যটকের ল্যাপটপ উদ্ধার দিল্লিতে বসে আওয়ামী লীগ, দেশে থেকে জামায়াত ষড়যন্ত্র করছে: রাশেদ খাঁন এআই দিয়ে তৈরি ভুয়া ভিডিও নিয়ে সতর্ক করলেন শায়খ সুদাইস

সংকট পিছু ছাড়ছে না হাওরের কৃষকের

সিলেটের হাওরাঞ্চলে ধান কাটার মৌসুমে একের পর এক সংকট দেখা দেওয়ায় কৃষকদের দুর্ভোগ বাড়ছে। আগের জলাবদ্ধতার সমস্যার সঙ্গে
  • আপলোড সময় : ১৯ এপ্রিল ২০২৬, সকাল ৯:৪৪ সময়
  • আপডেট সময় : ১৯ এপ্রিল ২০২৬, সকাল ৯:৪৪ সময়
সংকট পিছু ছাড়ছে না হাওরের কৃষকের

সিলেটের হাওরাঞ্চলে ধান কাটার মৌসুমে একের পর এক সংকট দেখা দেওয়ায় কৃষকদের দুর্ভোগ বাড়ছে। আগের জলাবদ্ধতার সমস্যার সঙ্গে এবার যুক্ত হয়েছে জ্বালানি সংকট, যার কারণে হারভেস্টার মেশিন চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে। ফলে ধান কাটা ও ঘরে তোলা নিয়ে চরম অনিশ্চয়তায় রয়েছেন কৃষকেরা। স্থানীয় কৃষকদের অভিযোগ, অনেক এলাকায় জমিতে জলাবদ্ধতা থাকায় হারভেস্টার মেশিন নামানো যাচ্ছে না। আবার যেখানে ধান পেকে গেছে, সেখানে শ্রমিকের সংকট থাকায় বিকল্প ব্যবস্থায়ও ধান কাটার সুযোগ মিলছে না।


এদিকে সুনামগঞ্জের ১২টি উপজেলায় হাওর রক্ষা বাঁধের প্রায় ৪০টি স্থানে পানি নিষ্কাশনের জন্য বাঁধ কেটে দেওয়া হচ্ছে। এবার প্রায় ১৪৮ কোটি টাকা ব্যয়ে ৬০৩ কিলোমিটার অস্থায়ী ফসল রক্ষা বাঁধ নির্মাণ করা হলেও কৃষকদের মধ্যে এখনো আশঙ্কা কাটেনি। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, এ বছর সুনামগঞ্জে ২ লাখ ২৩ হাজার ৫১১ হেক্টর জমিতে বোরো ধান আবাদ হয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ১৪ লাখ মেট্রিক টন ধান উৎপাদনের সম্ভাবনা রয়েছে। তবে জলাবদ্ধতার কারণে ইতোমধ্যে হাজার হাজার হেক্টর জমির ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।


কৃষকেরা জানান, হারভেস্টার মেশিন চালাতে ডিজেল তেলের জন্য ঘুরতে হচ্ছে বিভিন্ন পাম্পে। অনেক সময় প্রয়োজনীয় তেল পাওয়া যাচ্ছে না, আবার কোথাও অতিরিক্ত দামে বিক্রি হচ্ছে। এতে ধান কাটার কাজ দেরি হচ্ছে এবং হাওরে আবার ঢল নামলে বিপুল ক্ষতির আশঙ্কা তৈরি হচ্ছে। একজন হারভেস্টার মালিক জানান, তেল সংগ্রহের জন্য উপজেলা কৃষি অফিস ও প্রশাসনের অনুমতি লাগলেও নির্দিষ্ট পাম্পে গিয়ে সীমিত পরিমাণ জ্বালানি পাওয়া যাচ্ছে। এতে ধান কাটার গতি মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।


অন্যদিকে কৃষি বিভাগ বলছে, জেলায় পর্যাপ্ত হারভেস্টার মেশিন থাকলেও জ্বালানি ব্যবস্থাপনায় কিছু সমস্যা হচ্ছে। তবে নিয়ম অনুযায়ী স্লিপ নিয়ে ডিজেল সংগ্রহ করা যাচ্ছে বলে দাবি তাদের। সুনামগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ড জানিয়েছে, হাওরের জলাবদ্ধতা নিরসনে স্থানীয়ভাবে কমিটি গঠন করে পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করা হচ্ছে। ভবিষ্যতে স্থায়ী সমাধানের জন্য স্লুইসগেট নির্মাণের পরিকল্পনাও রয়েছে।


সব মিলিয়ে হাওরের কৃষকেরা এখন ধান কাটা শেষ করে নিরাপদে ঘরে তোলার অপেক্ষায় আছেন, তবে আবহাওয়া ও জ্বালানি সংকট তাদের সেই আশাকে অনিশ্চয়তার মধ্যে ফেলেছে।

  • বিষয়:

নিউজটি আপডেট করেছেন: নিউজ ডেস্ক।

বাংলা নিউজ নেটওয়ার্ক ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ
চাকরির পেছনে না ছুটে তরুণদের উদ্যোক্তা হওয়ার আহ্বান জনপ্রশাসন উপদেষ্টার

চাকরির পেছনে না ছুটে তরুণদের উদ্যোক্তা হওয়ার আহ্বান জনপ্রশাসন উপদেষ্টার