হেমন্তের দুপুরেও গ্রীষ্মের খরতাপ যেন কমার নাম নেই। তপ্ত রোদে দগ্ধ বাতাসে স্কুলের মাঠ জ্বলছে আগুনের মতো। তাই বিদ্যালয়ের প্রাত্যহিক শরীরচর্চা আজ সংক্ষিপ্ত করা হয়েছে। ঘেমে একাকার ছোট ছোট শিক্ষার্থীরা ছুটে গেল টিউবওয়েলের কাছে।
কেউ ঠাণ্ডা পানি পান করল, কেউবা হাত-মুখে পানি ছিটিয়ে একটু প্রশান্তি খুঁজে নিলো। কিছুক্ষণের মধ্যেই আবার তারা রোদে। ঝলমলে আকাশের নিচে ব্যস্ত হয়ে উঠল গাছ লাগানোর উৎসবে। প্রখর তাপও যেন আজ তুচ্ছ তাদের চোখে! শিক্ষকদের ‘না’ শুনেও তারা থামছে না।
সবাই এক সুরে বলছে, ‘আমরাও গাছ লাগাব, আমরাও কাজ করব।’
কেউ হাতে ছোট চারা নিয়ে ছুটে এলো, কেউবা টবে মাটি ভরছে। মুখে হাসি, শরীরে ঘাম, কিন্তু মনে আছে অফুরন্ত আনন্দ সব মিলে বিদ্যালয়ের আঙিনায় জন্ম নিলো সবুজের এক উচ্ছ্বাসময় উৎসব।
আজ বৃহস্পতিবার (২৩ অক্টোবর) সকালে বসুন্ধরা শুভসংঘের উদ্যোগে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়ার রাধানগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের বাগান করে দেওয়া হয়েছে।
বিদ্যালয়ের শোভাবর্ধনে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়। বসুন্ধরা শুভসংঘের প্রস্তাবিত আখাউড়া শাখার উদ্যোগে এ আয়োজনে অন্তত ২০টি ফুল ও ফলের চারা বিদ্যালয়ের আঙিনা ও টবে লাগানো হয়। সকাল সাড়ে নয়টা থেকে ১০টা পর্যন্ত এ কার্যক্রম চলে। আয়োজনে শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি বিদ্যালয়ের শিক্ষক-কর্মচারিরাও অংশ নেন। কালের কণ্ঠের ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা প্রতিনিধি বিশ্বজিৎ পাল বাবু এ আয়োজনের সমন্বয় করেন।
শিক্ষার্থীরা জানায়, তারা খুব খুশি। বসুন্ধরা শুভসংঘের জন্য তাদের বিদ্যালয়ের সৌন্দর্য্য বেড়েছে। তারা বসুন্ধরা শুভসংঘের জন্য দোয়া করে এবং বুকভরা ভালোবাসা জানায়। পাশাপাশি বসুন্ধরা শুভসংঘ যেন এ রকম আয়োজন অব্যাহত রাখে সেই আশাবাদ ব্যক্ত করে।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মৌসুমী আক্তার বলেন, ‘বিদ্যালয়ের সৌন্দর্য্য বাড়াতে ফুল, ফলের বাগান করার কোনো বিকল্প নেই। বসুন্ধরা শুভসংঘ আমাদের বিদ্যালয়ে বাগান করতে সহযোগিতা করেছে। এ উদ্যোগটি অবশ্যই প্রশংসনীয়। বসুন্ধরা শুভসংঘের প্রতি দোয়া ও ভালোবাসা রইল।’
নিউজ ডেস্ক
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন